Published : 02 Sep 2025, 01:47 PM
গোটা ফুটবল দুনিয়ার জন্য যেমন খবরটি বিস্ময় হয়ে এসেছে, তেমনি চমকে গেছেন এরিক টেন হাগ নিজেও। নতুন ক্লাবে এত দ্রুত অধ্যায় শেষ হয়ে যাবে, ভাবতে পারেননি তিনি। ডাচ এই ফুটবল কোচের দাবি, যে ক্লাবই তার ওপর ভরসা রেখেছে, তারা সাফল্য পেয়েছে।
বায়ার লেভারকুজেনের কোচের দায়িত্বে টেন হাগের দুই বছরের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে বুন্ডেসলিগায় স্রেফ দুটি ম্যাচ দিয়েই।
গত মে মাসের শেষ দিকে কোচ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে জার্মান ক্লাবটি। তার কোচিংয়ে দল যাত্রা শুরু করে জার্মান কাপে চতুর্থ স্তরের দলের সঙ্গে বড় জয় দিয়ে। তবে বুন্ডেসলিগায় প্রথম ম্যাচে হার ও পরের ম্যাচে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর তাকে সরিয়ে দেয় ক্লাবটি।
এত দ্রুত এমন খড়গ নেমে আসবে, টেন হাগ তা ভাবতেও পারেননি বলে জানালেন বিবৃতিতে।
“বায়ান লেভারকুজেনের এই সিদ্ধান্ত আমার জন্য পুরোপুরি বিস্ময় হয়ে এসেছে। লিগে দুটি ম্যাচ পরই কোচের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘটনা নজিরবিহীন।”
শাবি আলোন্সোর কোচিংয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে সাড়া জাগিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম বুন্ডেসলিগা জয় করে লেভারকুজেন। লিগে সেবার কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। জার্মান কাপও জয় করে তারা জিতে নেয় ডাবল। ফাইনালে খেলে ইউরোপা লিগে।
গত মৌসুমে সেই সাফল্য আর ধরে রাখতে পারেনি ক্লাবটি। মৌসুম শেষে আলোন্সো দায়িত্ব নেন রেয়াল মাদ্রিদের। কোচ ছাড়াও ক্লাব ছাড়েন এবার দলের মাঝমাঠের প্রাণ ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস। এছাড়াও ইয়েরেমি ফ্রিম্পং, গ্রানিত জাকাসহ ক্লাব ছাড়েন আরও বেশ কজন তারকা।
টেন হাগের অভিযোগ কিংবা আক্ষেপ, নতুন করে দল গড়ে তোলার সময়ই তাকে দেওয়া হলো না।
“এই গ্রীষ্মে বেশ কজন ফুটবলার ক্লাব ছেড়ে গেছে, আগের সাফল্যে যাদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। নতুন ও সমন্বিত একটি দল গড়ে তোলা খুব সতর্ক প্রক্রিয়ার ব্যাপার। সেটির জন্য সময় ও আস্থা, দুটিরই প্রয়োজন পড়ে। নতুন কোচের জন্য লক্ষ্য পূরণ করা, মান গড়ে তোলা, স্কোয়াডকে নিজের মতো করে রূপ দেওয়া ও নিজস্ব ঘরানার ফুটবল খেলার ছাপ রাখতে সময় ও সুযোগটুকু প্রাপ্য।”
“পূর্ণ প্রাণশক্তি ও প্রত্যয় নিয়ে এই দায়িত্ব শুরু করেছিলাম আমি। কিন্তু আমার যে সময় ও আস্থা প্রয়োজন ছিল, সেটি দুঃখজনকভাবে আমাকে দেয়নি ম্যানেজমেন্ট, যেটির জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। মনে হচ্ছে, এই সম্পর্কে পারস্পরিক আস্থাবোধ কখনও ছিলই না।”
৫৫ বছর বয়সী কোচের দাবি, তার ওপর ভরসা রেখে কোনো ক্লাব আগে পস্তায়নি।
“ক্যারিয়ারজুড়ে যে ক্লাবেই আমি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে গেছি, তা সাফল্য বয়ে এনেছে। যে ক্লাবই আমার ওপর ভরসা রেখেছে, তারা পুরস্কৃত হয়েছে সাফল্য ও শিরোপা দিয়ে।”
টেন হাগের কোচিং ক্যারিয়ারের সাফল্যময় সময় ছিল আয়াক্সে। সেখানে তিনটি ডাচ লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে তোলেন তিনি ক্লাবকে। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার সময়টুকু ছিল বিতর্ক আর সমালোচনায় ভরা। সেখানে প্রথম মৌসুমে লিগে তৃতীয় হওয়া ও লিগ কাপ জয়ের সাফল্য মিললেও পরে কেবল অবনতিই হতে থাকে দলের। অনেক সমালোচনার পথ ধরে আড়াই বছর দায়িত্বে থাকার পর বরখাস্ত হন তিনি।
এবার লেভারকুজেনে চাকরি হারিয়ে আপাতত তিনি ছিটকে পড়লেন ডাগআউট থেকে।