ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
Published : 15 Mar 2026, 01:40 AM
কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অসংখ্যা আক্রমণ, গোলের জন্য অসংখ্য শট নিয়েও এভারটনের প্রবল প্রতিরোধ ভাঙা যাচ্ছিল না। সময় ফুরিয়ে আসছিল, গ্যালারিতে ভক্তদের উৎকণ্ঠা টের পাওয়া যাচ্ছিল। এমন সময়ে ঝলক দেখালেন ম্যাক্স ডাউম্যান। ১৬ বছর বয়সী ফুটবলারের জাদুকরী পারফরম্যান্সে শেষের গোলে দারুণ জয় পেল আর্সেনাল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার ২-০ গোলে জিতেছে মিকেল আর্তেতার দল। ভিক্তর ইয়োকেরেশের গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর নিজেও জালের দেখা পান ডাউম্যান। তিনিই এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা।
এই জয়ে আপাতত ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে গেল আর্সেনাল। ৩১ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭০। দুই ম্যাচ কম খেলা সিটির পয়েন্ট ৬০।
ঘরের মাঠে প্রথম সুযোগ পান ননি মাদুয়েকে। তবে এভারটনের হয়ে ৩৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা পিকফোর্ডকে খুব একটা ভাবাতে পারেননি তিনি।
সফরকারীদের প্রবল চাপে রেখে একের পর এক আক্রমণ করে আর্সেনাল। তবে রক্ষণ জমাট রেখে সেগুলো দারুণ দৃঢ়তায় সামাল দেয় এভারটন।
প্রতি আক্রমণে মাঝেমাঝে ভীতি ছড়ানো সফরকারীরা এগিয়ে যেতে পারত সপ্তদশ মিনিটে। ডোয়াইট ম্যাকনিলের শট পা বাড়িয়ে কোনোমতে ফেরান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরি। কয়েক সেকেন্ড পর ম্যাকনিলের আরেকটি শট ফেরে দূরের পোস্টে লেগে!
বল দখল ও আক্রমণে বেশি এগিয়ে আর্সেনাল। কিন্তু প্রতি আক্রমণে সেরা সুযোগগুলো পাচ্ছিল এভারটন। ৩১তম মিনিটে কিরনান ডিউসবারি-হলের শট চমৎকার রিফ্লেক্সে ব্যর্থ দেন দেন দাভিদ রায়া।
৩৬তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আর্সেনালের ডাচ ডিফেন্ডার ইউরিয়েন টিম্বার।
প্রথমার্ধে দুই দলই দুটি করে শট লক্ষ্যে রাখে। ৬১ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে আর্সেনাল গোলের জন্য নেয় ১৩ শট, এভারটন কেবল পাঁচটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রথম সুযোগ পায় এভারটন। ৪৯তম মিনিটে বেতোর শট পা বাড়িয়ে কোনোমতে ফেরান আর্সেনাল গোলরক্ষক। একটু পর ব্লকড হয় ম্যাকনিলের শট।
১০ মিনিট পর সাকার শট ঠেকিয়ে সমতা ধরে রাখেন পিকফোর্ড। ৬৩তম মিনিটে এবেরেচি এজের শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে! গোলের জন্য আর্সেনালের অপেক্ষা আরেকটু বাড়ে।
৭৬তম মিনিটে গতিময় শটে ঠিকানা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন এজে। তবে বল পিকফোর্ডের বেশ কাছাকাছি থাকায় তিনি সাফল্য পাননি।
একের পর এক আক্রমণ করা আর্সেনাল এগিয়ে যায় ৮৯তম মিনিটে। ডাউম্যানের নিখুঁত ফ্রি কিক ঠেকাতে গিয়ে লাফিয়ে বল মৃদু স্পর্শের বেশি কিছু করতে পারেননি পিকফোর্ড। গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে স্বাগতিকরা পেয়ে যায় ফাঁকা জাল। পিয়েরো ইনকাপিয়ার গায়ে লেগে আসা বল খুব সহজেই জালে পাঠান ইয়োকেরেশ।
যোগ করা সময়ে সমতার চেষ্টায় ফ্রি কিকের সময় গোলরক্ষকসহ এভারটনের সবাই চলে যান আর্সেনালের অর্ধে। নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে দারুণ গতিতে ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ডাউম্যান। আর্সেনালের সব সদস্য ছুটে গিয়ে তার সঙ্গে মাতেন গোল উদযাপনে।
উপলক্ষ্যটা তো অনেক বড়। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করলেন ডাউম্যান। তার চেয়ে কম বয়সে প্রিমিয়ার লিগে জালের দেখা পাননি আর কেউ!