চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 06 May 2026, 03:31 PM
শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে ছুট দিলেন লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবলাররা। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ে মাঠে ঢুকলেন মিকেল আর্তেতাও। খেলোয়াড়দের কাউকে জড়িয়ে ধরে, কারো পিঠ চাপড়ে দিয়ে প্রকাশ করলেন অনুভূতি। পরে সবাইকে নিয়ে ঘরের মাঠের দর্শকদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার মুহূর্তটি করলেন উদযাপন।
আর্সেনাল কোচের কাছে, মঙ্গলবার রাতটি অবিশ্বাস্য। ২০ বছর পর ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় ফাইনালে ওঠার কীর্তি যে গড়েছে তারা। এনিয়ে স্রেফ দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগ ১-০ গোলে জেতে আর্সেনাল। আতলেতিকোর মাঠে প্রথম লেগ ১-১ ড্র হওয়ায়, ২-১ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্সেনাল।
এদিন আর্সেনালের জয়ের নায়ক বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তার করা গোল আর শোধ করতে পারেনি আতলেতিকো। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এনিয়ে নয়টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করল না আর্সেনাল।
২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিল আর্সেনাল। সেবার বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। দুই দশক পর ইউরোপ সেরা হওয়ার সুযোগ আবারও পেতে যাচ্ছে তারা।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পিএসজি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখকে পাবে আর্সেনাল। গত মৌসুমে পিএসজির বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে হেরেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়ে লন্ডনের ক্লাবটি।
বুদাপেস্টে এবারের ফাইনালে হবে আগামী ৩০ মে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার পর আনন্দে আত্মহারা আর্তেতা বলেন, “এই ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার জন্য এর চেয়ে বেশি খুশি ও গর্বিত হতে পারতাম না। আমাদের সবার লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক জায়গায় এসে মিলেছে।”
খেলাধুলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত রাখা অপ্টা বলছে, এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের নিজেদের আগের রেকর্ড স্পর্শ করেছে আর্সেনাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এবার ৪১ ম্যাচ জিতেছে তারা। ৫৫ বছর আগে ১৯৭০-৭১ মৌসুমেও ৪১ ম্যাচ জিতেছিল দলটি।
মাঝে পথ হারিয়ে বসেছিল আর্সেনাল। তবে আবারও ছন্দে ফিরে পেয়েছে তারা। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার লাগামও এখন তাদের হাতে। সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য দারুণ এক রাত ছিল।
আর্তেতা বলেন, এমিরেটস স্টেডিয়ামের ভেতরে এবং বাইরে এমন উন্মাদনাপূর্ণ পরিবেশ তিনি আগে কখনো অনুভব করেননি। তার মতে, দলের খেলোয়াড়রা এখন আবার পূর্ণ উদ্যমে লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
“এটা দারুণ ব্যাপার। সবাই এখন দলের প্রাণশক্তি এবং বিশ্বাসের ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে পারছে। এটাকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে হবে। বুঝতে হবে, যা অর্জন করতে চাইছি সেটা অনেক কঠিন। তবে আমাদের সেই সামর্থ্য এবং দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে, এটা নিশ্চিত।”