চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 08 Apr 2026, 02:59 AM
চল্লিশে এসেও পোস্টে দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন মানুয়েল নয়ার। করলেন দারুণ সব সেভ। এরপর, বিরতির আগে-পরে দারুণ দুই গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল বায়ার্ন মিউনিখ। শেষদিকে ব্যবধান কমাতে পারলেও, ঘরের মাঠে হার এড়াতে পারল না রেয়াল মাদ্রিদ।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ গোলে জিতেছে সফরকারীরা। লুইস দিয়াস ও হ্যারি কেইনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপে।
মঙ্গলবার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়াই হয়েছে সমানে সমানে। দুই দলই সুযোগ নষ্ট করেছে অসংখ্য, নয়তো স্কোরলাইন বড় হতে পারতো আরও।
বল দখলে সামান্য পিছিয়ে ছিল রেয়াল মাদ্রিদ। তবে দুই দলই গোলের জন্য শট নিয়েছে ২০টি করে। রেয়ালের ৯টি শট লক্ষ্যে ছিল, বায়ার্নের আটটি।
এক যুগেরও বেশি সময় পর রেয়ালের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল বায়ার্ন। এর আগে তারা মাদ্রিদের দলটির বিপক্ষে সবশেষ জিতেছিল ২০১১-১২ আসরে, সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে, ২-১ গোলে। সেবার ফিরতি লেগে রেয়ালও একই ব্যবধানে জয়ের পর, টাইব্রেকারে জিতে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। ওই আসরে চ্যাম্পিয়নও হয় তারা।
এরপর স্প্যানিশ ক্লাবটির বিপক্ষে জয়ের পথটাই যেন ভুলে গিয়েছিল বায়ার্ন, আরও চারবার নকআউটে দেখায় মোট আট ম্যাচ খেলে জিততে পারেনি একটিও (রেয়াল জেতে ছয়টি, দুটি ড্র)। সেই গেরো এবার কাটাতে পারল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
অষ্টম মিনিটে রেয়ালের ডি-বক্সে ফেদেরিকো ভালভের্দের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে বায়ার্ন; তবে হাত শরীর সোজা থাকায় রেফারি সাড়া দেননি।
পরের মিনিটে আরেক দফা বেঁচে যায় স্বাগতিকরা। গোলমুখে একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান উপামেকানো, গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন আগেই ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন; কিন্তু ঠিকমতো শট নিতে পারেননি বায়ার্ন ডিফেন্ডার। গোললাইন থেকে কোনোমতে ক্লিয়ার করেন আলভারো কাররেয়াস।
পরের কয়েক মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করে রেয়ালও। ষোড়শ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের শট পা দিয়ে আটকানোর দুই মিনিট পর, ভিনিসিউস জুনিয়রের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মানুয়েল নয়ার।
গত শনিবার লা লিগায় মায়োর্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচে রেয়ালের রক্ষণের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। এখানে ২৮তম মিনিটে আরও বড় ভুলে গোল হজম করতে যাচ্ছিল দলটি। ডি-বক্সেই লুনিনের পাস ধরে কী বুঝে ব্যাকপাস দেন ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার থিয়াগো, যখন গোলরক্ষকের সামনেই ছিলেন সের্গে জিনাব্রি। বায়ার্ন ফরোয়ার্ড তড়িৎ প্রথম ছোঁয়ায় শটও নেন, তবে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। হাফ ছাড়ে রেয়াল।
ওখান থেকে দ্রুত প্রতি-আক্রমণ শাণায় তারা। ডি-বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে কোনাকুনি শট নেন এমবাপে এবং আরেকটি দারুণ সেভ করেন ৪০ বছর বয়সী নয়ার।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াইয়ে ডেডলক ভাঙে ৪১তম মিনিটে। জিনাব্রির ছোট থ্রু পাস ডি-বক্সে ধরেই নিখুঁত শটে লুনিনকে পরাস্ত করেন দিয়াস।
বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। মাঝমাঠে রেয়ালের থেকে পজেশন কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণ শাণায় সফরকারীরা এবং মাইকেল ওলিসের পাস ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় পেয়ে প্রথম ছোঁয়ার শটে ঠিকানা খুঁজে নেন কেইন।
চোট কাটিয়ে ফেরা ইংলিশ তারকার মৌসুমে গোল হলো ৪১ ম্যাচে ৪৯টি। এর মধ্যে ১১টি এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।
দ্বিতীয় গোল খেয়ে যেন রেয়ালের আত্মবিশ্বাস নড়ে যায়। ৫৭তম মিনিটে আবার বিপজ্জনক সীমানায় পজেশনও হারায় তারা। বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন কেইন, পা বাড়িয়ে কোনোমতে আটকান ভালভের্দে।
একটু পর মাঠের অন্য পাশে রক্ষণে গড়বড় হয়, উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে হেডে নয়ারকে বাড়ানোর চেষ্টা করেন উপামেকানো; কিন্তু হয়নি ঠিকঠাক। বল পেয়ে যান ভিনিসিউস, তবে পাশের জালে মেরে হতাশা বাড়ান তিনি।
কয়েক মিনিটের মধ্যে নিশ্চিত দুটি সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপে। ৬৬তম মিনিটে তার শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন নয়ার, দুই মিনিট পর দুরূহ কোণ থেকে ফরাসি ফরোয়ার্ডের শট হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।
অনেক ব্যর্থতার পর, অবশেষে ৭৪তম মিনিটে সাফল্যের দেখা পায় রেয়াল। ম্যাচে প্রথমবার পরাস্ত হন নয়ার। ট্রেন্ট-অ্যালেকজ্যান্ডার আর্নল্ড গোলমুখে দুর্দান্ত ক্রস বাড়ান, আর পা বাড়িয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান এমবাপে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপের গোল হলো ১৪টি, মৌসুমে সব মিলিয়ে হলো ৩৯টি, ৩৭ ম্যাচে।
ওই গোলে যেন ঘুমন্ত এক শহর জেগে ওঠে। ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসে রেয়ালও বারবার আক্রমণে উঠতে থাকে। ভিনিসিউস-এমবাপের প্রতিটি শটে বাড়ছিল গ্যালারির সাদা অংশের গর্জন।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পান জামাল মুসিয়ালা, কিন্তু তার দুর্বল শট লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে এমবাপের আরেকটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রেয়ালকে।
আগামী বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মাঠে গড়াবে ফিরতি লেগ।