Published : 09 Mar 2026, 11:33 PM
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান উইমেন’স এশিয়ান কাপ অভিযান শেষের পর দেশে ফিরতে চাওয়া ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিবিসির খবর, ইরান দলের পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার একটি ‘সেফ হাউসে’ আশ্রয় নিয়েছে।
‘এ’ গ্রুপে রোববার ফিলিপিন্সের বিপক্ষে ২-০ গোলের হার দিয়ে আসর শেষ করে ইরান। দলটির দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচের আগে দলটির খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে সমালোচনা শুরু হয়। এক রক্ষণশীল টেলিভিশন উপস্থাপক দলটিকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এতে ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সমর্থকরা। রোববার গোল্ড কোস্টে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় ইরানের টিম বাসকে ঘিরে ধরে শত শত সমর্থক, ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ স্লোগান দিতে থাকে।
বিবিসি সোমবার লিখেছে, টিম হোটেলের ভেতর নাটকীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে তারা। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ‘অ্যাক্টিভিস্ট’দের সঙ্গে কথা বলার পর দলবদ্ধভাবে লবি থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কোচসহ আরেক গ্রুপ আতঙ্কিত হয়ে হোটেলের মধ্য দিয়ে ছুটে তাদের কক্ষে ফিরে যায়।
দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ও শেষ ম্যাচে ফিলিপিন্সের বিপক্ষে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গায় ও স্যালুট করে। অনেকের ধারণা, ইরানি দলের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি, যারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে) সদস্যরা খেলোয়াড়দের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে ও স্যালুট করতে বাধ্য করেছে।
সিডনিতে সোমবার ইরানি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা, এএফসি ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া/ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ।
“আমরা (অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে) বলছি, যেন খেলোয়াড়দের (নিরাপত্তা) নিয়ে কাজ করা হয়। এটা সত্যিই কঠিন পরিস্থিতি। এমন খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা ফিরে যেতে চায়। দলের মধ্যে এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা আশ্রয় পেতে চায়, অথবা অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি সময় থাকতে চায়। এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে যারা সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান দলকে দেশে ফিরতে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে। দলটির সদস্যদের আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
“ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলকে জোরপূর্বক ইরানে ফেরত নেওয়ার অনুমতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ভয়াবহ মানবিক ভুল করছে, সেখানে (ইরান) হয়তো তাদের হত্যা করা হবে। আপনি যদি তা না করেন (আশ্রয় না দেন), তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ে যাবে।”
গত সপ্তাহে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে ইরান। তারপর থেকে বন্ধ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা।