Published : 04 Jul 2026, 10:08 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূল কাজ শুরু হবে।
“যেকোনো মূল্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে; যার মধ্য দিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।”
শনিবার বিকালে লালমনিরহাটের এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ কোনো আপোষ করেনি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “শত নির্যাতন, জেল-জুলুম ও আত্মত্যাগের পরও মানুষ মাথা নোয়ায়নি।
“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত এই বিজয়কে ধারণ করে এখন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময় এসেছে।”
বিএনপি যা বলে, তা বাস্তবায়ন করে দেখায় জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানী প্রদানসহ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে ব্যাপকভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে।”
মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মাদকের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ আজ বিপর্যস্ত। যুবসমাজ তাদের ভবিষ্যৎ হারাচ্ছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। জনগণকে সচেতন করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই অপরাধ দমন করতে হবে।

“লালমনিরহাটে আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে যে মাদক, জুয়া ও যৌতুকবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।”
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি সামাজিক অপরাধ নির্মূলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধান, জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভা শেষে তিন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি এমটি হোসেন মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।