১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এভারটনের মাঠে পয়েন্ট হারিয়ে আর্সেনালের হাতে লাগাম তুলে দিল সিটি

যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে জেরেমি ডোকুর গোলে হার এড়াতে পারল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।

এভারটনের মাঠে পয়েন্ট হারিয়ে আর্সেনালের হাতে লাগাম তুলে দিল সিটি
এভারটনের মাঠে ড্র করল ম‍্যানচেস্টার সিটি। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 May 2026, 03:23 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

প্রথমার্ধে ম‍্যানচেস্টার সিটির আক্রমণের ঝাপটায় যেন খুঁজেই পাওয়া গেল না এভারটনকে। দ্বিতীয়ার্ধে কী নাটকীয়ভাবেই না বদলে গেল পরিস্থিতি। স্বাগতিকদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে হারতে বসেছিল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। শেষের গোলে কোনোমতে একটি পয়েন্ট পেল তারা। 

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোমাঞ্চকর লড়াইটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছে। সিটি পয়েন্ট হারানোয় শিরোপা লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে গেল আর্সেনাল। 

সিটির প্রথম ও শেষ গোলটি করেছেন জেরেমি ডোকু, মাঝেরটি আর্লিং হলান্ড। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ডোকুর শেষ গোলটি শিরোপা লড়াইয়ে হয়ে উঠতে পারে মহামূল‍্য।

এভারটনের হয়ে জোড়া গোল করেছেন তিয়ের্নো বেরি, অন‍্যটি জ‍্যাক ও’ব্রায়েন।

৩৫ ম‍্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্সেনাল। ৩৪ ম‍্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে সিটি। 

প্রতিপক্ষের মাঠে ষোড়শ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় সিটি। নিকো ও’রাইলির কাটব‍্যাকে হলান্ডের শট প্রতিহত হয় এভারটনের রক্ষণে। দুই মিনিট পর প্রায় একই জায়গা থেকে একই পরিণতি হয় ও’রাইলির শটের। 

কয়েক সেকেন্ড পর হায়ান শেহকির গতিময় শট ফেরে এভারটন গোলরক্ষকের বুকে লেগে। ফিরতি বলে অ‍্যান্টোয়ান সেমেনিওর শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।

পাল্টা আক্রমণে ৩২তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পায় এভারটন। তবে মেরলিন রুরলের ক্রসে ঝাঁপিয়ে বলের একটু দিক পাল্টে দেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ফিরতি বলে বেতোর শট নিজের শরীর দিয়ে ঠেকান আব্দুখোদি কুজানভ।

সাত মিনিট পর ভালো জায়গা থেকে শট লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি শেহকি। 

৪৩তম মিনিটে অপেক্ষার অবসান হয় সিটির। শেহকির কাছ থেকে ডি বক্সের মাথায় বল পেয়ে একটু সময় নিয়ে বাম পায়ের আড়াআড়ি শটে জাল খুঁজে নেন ডোকু। কিছুই করার ছিল না এভারটন গোলরক্ষকের। 

প্রথমার্ধে পুরোপুরি রক্ষণে গুটিয়ে ছিল এভারটন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকরা। তাতে জমে ওঠে ম‍্যাচ। ৬০তম মিনিটে প্রতি আক্রমণে দারুণ একটা সুযোগ পায় তারা। ইলিমান এনজাইয়ের শট ঝাঁপিয়ে কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান দোন্নারুম্মা।   

লক্ষ‍্যে এটাই ছিল এভারটনের প্রথম শট। 

দুই মিনিট পর আরও বড় সুযোগ পান এনজাই। সিটি ডিফেন্ডারদের ব‍্যর্থতায় দোন্নারুম্মাকে একা পেয়ে যান তিনি। কিন্তু ইতালিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ঝাঁপিয়ে বল গ্লাভসে নেন দোন্নারুম্মা। 

নষ্ট হয় এভারটনের সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ। 

সিটিকে প্রবল চাপে রাখা এভারটন ৬৮তম মিনিটে সমতা ফেরায় মার্ক গেয়ির মারাত্মক ভুলে। অফসাইডে ছিলেন বেরি। কিন্তু দুর্বল ব‍্যাকপাস দিয়ে বিপদ ডেকে আনেন গেয়ি। বল ধরে অনায়াসে জাল খুঁজে নেন বেরি। 

৭৩তম মিনিটে এভারটনকে এগিয়ে নেন ও’ব্রায়েন। জেমস গার্নারের চমৎকার ক্রসে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন তিনি।  

দুই মিনিট পর স্কোরলাইন ৩-১ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন এনজাই। প্রতি আক্রমণ থেকে দোন্নারুম্মা বরাবর শট নেন তিনি। 

৮১তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১ করে ফেলেন বেরি! ডি বক্সের ভেতরে সতীর্থকে খুঁজে নেন রুরল। বাকিটা অনায়াসে সারেন বেরি।

পরক্ষণেই ব‍্যবধান কমান হলান্ড। সেন্টারের পর দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে যান নরওয়ের স্ট্রাইকার। থ্রু বল ধরে সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে চিপ শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। জেগে ওঠে সিটির আশা।  

যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে চমৎকার গোলে সমতা টানেন ডোকু। কর্নারের পর ডি বক্সের মাথায় বল পেয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। 

এই গোলে হার এড়াতে পারলেও, ৩ পয়েন্ট না পাওয়ায় শিরোপা লড়াইয়ের লাগাম চলে গেল মিকেল আর্তেতার দলের হাতে।