১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বার্সায় খেলার জন্য ছেলেবেলায় স্প্যানিশ শিখেছিলেন, এখন তার স্বপ্নপূরণ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার বিপক্ষে আলো ছড়িয়ে বার্সেলোনায় জায়গা করে নিলেন অ্যান্থনি গর্ডন।

বার্সায় খেলার জন্য ছেলেবেলায় স্প্যানিশ শিখেছিলেন, এখন তার স্বপ্নপূরণ
স্বপ্নের জার্সি হাতে অ্যান্থনি গর্ডন। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 May 2026, 11:26 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরও লম্বা সময়ের অপেক্ষা। শেষ মুহূর্তে কাগজপত্রের কিছু জটিলতায় সংবাদ সম্মেলন পিছিয়ে গেল আট ঘণ্টা। তবে সেই আয়োজনেই উপস্থিত সবাইকে বিস্মিত ও মুগ্ধ করলেন অ্যান্থনি গর্ডন। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিনি স্প্যানিশে! পরে নিজেই সেটির ব্যাখ্যায় বললেন, “বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, ছেলেবেলায় আমি স্প্যানিশ বলতে চাইতাম, কারণ বিশ্বাস করতাম একদিন বার্সার হয়ে খেলব…।”

সেই সময় গর্ডনের বিশ্বাসটুকু ছিল মূলত তার স্বপ্ন। এখন তা বাস্তব। পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন এই উইঙ্গার।

গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে এই দলবদল নিশ্চিত হয়েই গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো শুক্রবার। 

চুক্তির আর্থিক বিষয়াদি বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গারে জন্য বার্সেলোনার প্রাথমিক খরচ ৮ কোটি ইউরো (৯ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার), সঙ্গে আছে বাড়তি কিছু সংযুক্তি।

গর্ডনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা লিভারপুলে। ছয় বছর বয়সে লিভারপুলের একাডেমি যোগ দিয়ে সেখানে ছিলেন পাঁচ বছর। ২০১২ সালে যোগ দেন এভারটনের একাডেমিতে। এই ক্লাবের হয়েই সিনিয়র ফুটবলে তার অভিষেক ২০১৭ সালে। সেখান থেকে ২০২৩ সালে সাড়ে চার কোটি পাউন্ডে তাকে নেয় নিউক্যাসল।

নিউক্যাসলের হয়ে নিজের সেরা মৌসুমটি কাটিয়েছেন তিনি এবার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল করেছেন ১৭টি, এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই ১২ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার বার্সেলোনার বিপক্ষেও দারুণ খেলেছেন তিনি। 

তাকে দলে নেওয়ার পর বার্সেলোনার বিবৃতিতেও উঠে এলো সেই পারফরম্যান্সের কথা।

“গত মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল এবং সবচেয়ে বেশি ড্রিবল করা ফুটবলার হয়ে তিনি এই ক্লাবে যোগ দিলেন। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই মুগ্ধ করেছেন গর্ডন।”

এই ম্যাসের শুরুতেই নিউক্যাসলের কোচ এডি হাউ বলেছিলেন, গর্ডনকে তারা হয়তো ধরে রাখতে পারবেন না। তখন তার বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা ছিল বেশি। আগ্রহী ছিল এমনকি লিভারপুলও। পরে দৃশ্যপটে আবির্ভাব বার্সেলোনার। গর্ডনের হৃদয়ে তো কাতালান ক্লাবটির জায়গা আছে অনেক আগে থেকেই।

স্প্যানিশ শেখার সেই প্রসঙ্গেই তিনি বললেন, “নিউক্যাসলে আমাদের একজন ফিজিও আছে (স্প্যানিশ), তার সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলি এবং তাকে বলেছিলাম, ‘একদিন বার্সার হয়ে খেলবই খেলব, এজন্য স্প্যানিশ শিখতে চাই।’ এভাবেই স্প্যানিশ শিখেছি।”

এখন সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে তার উচ্ছ্বাস যেন ছুঁতে চাইছে আকাশ। প্রত্যাশা পূরণ করতেও তিনি প্রত্যয়ী।

 “এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব। ছেলেবেলায় ঠিক এমন স্বপ্নই দেখতাম। এখানে আসতে পারাটা সত্যিই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।”

“আমি জানি, এসবের সঙ্গে অনেক দায়িত্বও জুড়ে থাকে। কিন্তু যেমনটি বলেছি, এই ধরনের চ্যালেঞ্জের জন্য আমি প্রস্তুত, সেই দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত। অতীতে যে ফুটবলাররা এই জার্সি পরেছেন… আমি জানি, এটির ওজন কত…কিন্তু আমি প্রস্তুত। এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমি রোমাঞ্চিত।”

গর্ডন মূলত বাঁ পাশে খেলতেই বেশি পছন্দ করেন। তবে প্রয়োজনে মাঝ বরাবরই খেলতে পারেন। এই মৌসুম শেষেই বার্সেলোনা থেকে বিদায় নিচ্ছেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার সঙ্গে তাই গর্ডনকে যোগ করল বার্সেলোনা।

নতুন এই সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নামতে তর সইছে না গর্ডনের। 

“লামিনে এবং দলের অন্য সবার সঙ্গে খেলতে পারাটা আমার জন্য হবে খুবই রোমাঞ্চকর। চারপাশে যত বেশি মানসম্পন্ন ফুটবলার থাকবে, নিজেরও ভালো খেলার সম্ভাবনা তাতে বেড়ে যায়। এই ফুটবলাররা তো এমনি এমনিই শীর্ষ পর্যায়ে আসেনি… তারা বিশ্বের সেরা।”

বার্সেলোনা নিয়ে তার নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ তো আগে থেকেই ছিল। কোচের সঙ্গে কথা বলার পর সেই রোমাঞ্চের ঢেউ তীব্র হয়েছে আরও। স্বপ্নের ক্লাবে নিজের লক্ষ্যের কথাও জানালেন গর্ডন। 

“এর মধ্যেই হান্সি ফ্লিকের সঙ্গেও কথা বলেছি। আগে থেকেই খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম, কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার পর রোমাঞ্চ বেড়ে গেছে অনেক। তাকে খুবই ভালো একজন মানুষ এবং অসাধারণ একজন ম্যানেজার বলে মনে হয়েছে। আশা করি, আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু জিততে পারব।”

“বার্সার হয়ে কিছু জেতাটা খুবই বিশেষ ব্যাপার হবে। আমি প্রতিটি ট্রফি জিততে চাই, কিন্তু আমার মনে হয়, হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আমার জন্য হবে একটি অসাধারণ ট্রফি। ক্লাবের ষষ্ঠ (ইউরোপিয়ান কাপ) জেতাটা হবে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামার আগে গর্ডন অবশ্য খেলবেন বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

গর্ডনকে দলে নেওয়ার পর বার্সেলোনার মনোযোগ এখন হুলিয়ান আলভারেসের দিকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে দলে পেতে আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে তারা আলোচনা শুরু করেছে বলেও সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। আপাতত ট্রান্সফার ফি নিয়ে দর-কষাকষি চলছে দুই পক্ষের। বার্সেলোনার ১০ কোটি ইউরোর প্রাথমিক প্রস্তাবে আতলেতিকো রাজি হয়নি বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বার্সেলোনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে গর্ডনের ইংল্যান্ড সতীর্থ মার্কাস র‌্যাশফোর্ডকে নিয়েও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে খেলতে এসে এই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ১৪ গোল ও ১৪ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। 

দা অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, ৩ কোটি ইউরোতে র‍্যাশফোর্ডকে দলে নেওয়ার সুযোগ আছে বার্সেলোনার, কিন্তু সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আগামী ১৫ জুন। সূত্রের বরাতে ইএসপিএন জানাচ্ছে, গর্ডনকে নেওয়ার পর র‌্যাশফোর্ডকে ধরে রাখতে আগ্রহী বার্সেলোনা, তবে টাকার অঙ্ক নিয়ে আলোচনা করতে চায় তারা, অথবা আরেক মৌসুমের জন্য চায় ধারে।