ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
Published : 19 Apr 2026, 11:31 PM
শিরোপা লড়াইয়ে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মারাত্মক এক ভুল করে বসলেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা। তাতে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ দুই মিনিটও স্থায়ী হলো না ম্যানচেস্টার সিটির। তবে চাপ ধরে রাখল দলটি। কোচের ডাকে সাড়া দিয়ে, আর্সেনালকে হারিয়ে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা একটু জোরাল করল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে সিটি। হায়ান শেহকির দারুণ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দোন্নারুম্মার ওই ভুলের সুযোগে সমতা টানেন কাই হাভার্টজ। তবে, দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হলান্ডের গোলটি আর শোধ করতে পারেনি সফরকারীরা।
টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে দুই দশকের বেশি সময়ে শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্নে বড় এক ধাক্কা খেল আর্সেনাল।
পজেশন রাখায় কিংবা আক্রমণে আধিপত্য করেই জিতেছে সিটি। প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৫ শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। আর্সেনালের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
আসরে আর্সেনালের এটি পঞ্চম পরাজয়। লিগ টেবিলে অবশ্য এখনও শীর্ষেই আছে তারা। ৩৩ ম্যাচে ২১ জয় ও সাত ড্রয়ে মিকেল আর্তেতার দলের পয়েন্ট ৭০।
এক ম্যাচ কম খেলে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি।
পোস্টে মুহূর্তের ভুলে তৃতীয় মিনিটে দলের জন্য বিপদ ডেকে আনতে যাচ্ছিলেন দাভিদ রায়া। আর্সেনালের ভাগ্য ভালো, তেমন কিছু হয়নি। পরক্ষণে আবার বেঁচে যায় দলটি। হায়ান শেহকির শট গোলমুখে ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালিয়াইসের বাহুতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন ওঠে; তবে তার হাত শরীরের সঙ্গে লেগে ছিল, ভিএআরে মেলেনি সাড়া।
গোলের দেখা মিলতে অবশ্য দেরি হয়নি। ষোড়শ মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে সিটিকে এগিয়ে নেন শেহকি। মাথেউস নুনেসের বুক দিয়ে বাড়ানো বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে, দুজনকে কাটিয়ে আরেকজনের পায়ের ফাঁক দিয়ে শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি উইঙ্গার।
এবারের লিগে তার গোল হলো চারটি, মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০টি।
ব্যবধান যদিও দুই মিনিটও ধরে রাখতে পারেনি সিটি। পুনরায় খেলা শুরুর পর, গোলরক্ষকের অমার্জনীয় ভুলে গোল হজম করে তারা।
পোস্ট থেকে বেশ খানিকটা ডানদিকে কিছুটা অপ্রস্তুত ছিলেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা। সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে একটু বেশিই সময় নিয়ে নেন তিনি, তার দিকে দ্রুত ছুটে যান কাই হাভার্টজ, বিপদ বুঝতে পেরে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন গোলরক্ষক, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায় অনেক। হাভার্টজের বাড়ানো পায়ে লেগে বল চলে যায় জালে।
দ্বিতীয়ার্ধেও অধিকাংশ সময় বল দখলে রাখে আক্রমণ করতে থাকে সিটি। ৫২তম মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পান জেরেমি ডোকু; কিন্তু দুর্বল শট নিয়ে হতাশ করেন তিনি।
মূলত পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেওয়া আর্সেনাল ৬০তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো; তবে হাভার্টজের বাঁ পায়ের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন দোন্নারুম্মা। পরের মিনিটে এবেরেচি এজের শট পোস্টে বাধা পেলে হতাশা বাড়ে দলটির।
আর্সেনালের ওই দুই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার আফসোস বহুগুনে বেড়ে যায় চার মিনিট পর। ডি-বক্সে বল পেয়ে, গাব্রিয়েলের বাধা সামলে বাঁ পায়ের শটে সিটিকে আবার এগিয়ে নেন হলান্ড।
আসরে চার ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন হলান্ড। এবারের লিগে নরওয়ে তারকার গোল হলো ২৩টি, মৌসুমে সব মিলিয়ে হলো ৩৪টি।
প্রথম গোলের মতো এবারও, এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ শেষ হতে বসেছিল সিটির। তবে এবার ভাগ্য তাদের সহায় হয়। গাব্রিয়েলের হেডে বল নিকো ও’রাইলির শরীরের লেগে পোস্টে বাধা পায়।
সাত মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল আর্সেনাল। কিন্তু হাভার্টজের হেড ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায় এবং একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
গত তিন মৌসুমের প্রতিবার অনেকটা সময় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জোরাল রেখে, শেষ দিকে পথ হারিয়ে রানার্সআপ হয় আর্সেনাল। এবারও শেষ সময়ে যেন সাফল্যের চেনা পথটা হারাতে বসেছে দলটি।
গত মাসে লিগ কাপের ফাইনালে এই সিটির বিপক্ষেই পরাজিত হয় আর্সেনাল। পরে ছিটকে পড়ে এফএ কাপ থেকে। এবার আরেকবার গুয়ার্দিওলার দলের বিপক্ষে হেরে লিগ শিরোপা অভিযানে আরও কঠিন অবস্থায় পড়ল আর্তেতার দল।