উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 07 Jun 2026, 12:03 AM
শেষের বাঁশি বাজতেই কেউ হতাশায় মুখ ঢাকলেন, কেউ বসে পড়লেন, কেউ ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দিলেন মাঠে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময়ও মারিয়া-আফঈদাদের মুখগুলো ঢেকে থাকল বিষন্নতায়; হ্যাটট্রিক শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার বেদনায়। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় পিটার জেমস বাটলারের কথাও তৃপ্তি-অতৃপ্তির লুকোচুরি। ভালো খেলেও হেরে যাওয়ার হতাশা বেশি পোড়াচ্ছে তাকে।
গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ৩-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। ২০২২ সালে গোলাম রব্বানী ছোটনের হাত ধরে এই শিরোপা প্রথম জয়ের পর, ২০২৪ সালে বাটলারের কোচিংয়ে মুকুট ধরে রেখেছিল দল।
গ্রুপ পর্ব ও সেমি-ফাইনালের বিবর্ণতা ঝেড়ে ফেলে ফাইনালে দাপুটে ফুটবলের পসরা মেলেন আফঈদা-মারিয়া-ঋতুপর্ণারা। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর, তারা পাল্টা জবাব দেয় ঋতুপর্ণা গোলে। কিন্তু ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা, দ্বিতীয়ার্ধে মাঝেমধ্যে ছন্দ হারানোর চড়া মাশুল দিতে হলো দলকে।
বাটলারের মনে হচ্ছে, তাদের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন নেই স্কোরলাইনে।
“সত্যি বলতে, আমার মনে হয়, যেভাবে খেলা হয়েছে স্কোরলাইনে তার সঠিক প্রতিফলন নয়। আমার মতে, ম্যাচের একটা দীর্ঘ সময় জুড়ে আমরাই সেরা দল ছিলাম। মেয়েদের নিয়ে আমি সত্যিই ভীষণ গর্বিত, তারা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে এবং যেভাবে চেষ্টা করেছে। তবে হ্যাঁ, আমার মনে হয় প্রথম গোলটি ছিল একটা আকস্মিক দুর্ঘটনা, আমরা স্রেফ খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।”
“প্রথম গোলটি হজম করার সময়টাও খারাপ ছিল-৪২ বা ৪৩ মিনিটে। আর দ্বিতীয় গোলটি হয়েছে ঠিক বিরতির পরই-এক মিনিট ৪ সেকেন্ডের মাথায়। মেয়েরা জানে যে, আমি সবসময় ২০ মিনিটের ব্লক বা ১৫-২০ মিনিটের ব্লকে কাজ করি। আর তৃতীয় গোলটির সময় আমরা আক্রমণ করছিলাম, সুযোগ খুঁজছিলাম, দারুণ একটা সুযোগও ছিল। তবে হ্যাঁ, যা হওয়ার তা তো হয়েছেই এবং দুর্ভাগ্যবশত, এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক। কিন্তু মেয়েরা যেভাবে খেলেছে, বিশেষ করে তরুণ মেয়েরা, তাতে আমি সত্যিই খুব সন্তুষ্ট।”
ফাইনালে আলো ছড়ানো তরুণ মোমিতা খাতুন, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীদের প্রশংসায় ভাসালেন বাটলার। এই হারে ভেঙে পড়া নয়, শেখার বার্তাও দিলেন এই ইংলিশ কোচ।
“আমার মনে হয়, মোমিতার পারফরম্যান্স অসাধারণ ছিল। অনিকাও খুব, খুব ভালো করেছে। শামসুন্নাহার ও তহুরা সত্যিই অনেক পরিশ্রম করেছে, জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে। মারিয়া মান্দা অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সুতরাং, হ্যাঁ, দলের ঘাটতিগুলো কোথায় তা আমি জানি, তবে আমার মনে হয় এটা নিয়ে আমাদের খুব বেশি ভেঙে পড়লে চলবে না।”
“আমি সবসময় বলি, এটা একটা প্রতিনিয়ত শেখার প্রক্রিয়া। তবে এই টুর্নামেন্ট একটু ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে এবং এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও। ভারতের কোচের সাথে আমার কথা হচ্ছিল। তবে আমি মনে করি, তারাও জানে যে, আজ রাতে, এই হারটি আমাদের প্রাপ্য ছিল না। আমার মনে হয়, অনেকেই এটি স্বীকার করবেন যে, ম্যাচের একটা দীর্ঘ সময় আমরা ভারতের চেয়ে ভালো খেলেছি।