Published : 03 Oct 2025, 12:18 PM
বাবা ও ছেলে, দুজনেরই জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ফুটবলের পথে ছুটে চলা, সবই ফ্রান্সে। বাবা তো ফ্রান্সের ইতিহাসে তথা ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরাদের একজন। তবে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে ছেলে ফিরে গেলেন তাদের পরিবারের শেকড়ে। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান খেলবেন আলজেরিয়ার হয়ে।
প্রথমবার আলজেরিয়া জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন লুকা। আফ্রিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সোমালিয়া ও উগান্ডার বিপক্ষে সামনের ম্যাচ দুটির স্কোয়াডে ঠাঁই পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই গোলকিপার।
বাবার মতো বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন নিয়ে জাতীয়তা বদলে আলজেরিয়ার হয়ে খেলার আবেদন করেছিলেন লুকা। সপ্তাহ দুয়েক আগে তাকে সেই অনুমতি দেয় ফিফা। এরপর দলে ঢুকতেও খুব বেশি সময় লাগল না তার।
লুকার দাদা-দাদি, অর্থাৎ জিনেদিন জিদানের বাবা-মা আলজেরিয়ার যুদ্ধের আগে স্বদেশ ছেড়ে পাড়ি জমান ফ্রান্সে। তবে পরিবারের সেই পুরোনো পরিচয়কে আপন করেই এখন স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে চাইছেন লুকা।
ছয় বছর বয়সে রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে যোগ দেন লুকা। বাবার ক্লাবের একাডেমি ও যুব দলে ছিলেন তিনি ২০ বছর বয়স পর্যন্ত। রেয়ালের ‘বি’ দল হয়ে মূল দলেও জায়গা করে নেন তিনি একসময়। ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ছিলেন তিনি মূল স্কোয়াডে। মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন অবশ্য কালেভদ্রে। সেসময় ধারে খেলেছেন রেসিং সান্তান্দারে।

২০২০ সালে রেয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে পাড়ি জমান তিনি রায়ো ভাইয়েকানোতে। এরপর এইবারে দুই মৌসুম খেলে গত বছর গ্রেনাদায় যোগ দেন তিন বছরের চুক্তিতে।
বয়সভিত্তিক ফুটবলে ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলেছেন লুকা।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আফ্রিকান অঞ্চলে ‘জি’ গ্রুপে ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আলজেরিয়া। দুইয়ে থাকা উগান্ডার চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে তারা। সোমালিয়া ও উগান্ডার বিপক্ষে যে কোনো একটি ম্যাচে জিতলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের।
সোমালিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আগামী বৃহস্পতিবার, পরেরটি পাঁচ দিন পর।
জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। শিরোপা জিতেছেন ১৯৯৮ আসরে, রানার্স আপ হয়েছেন ২০০৬ বিশ্বকাপে।
জিনেদিনের চার ছেলের মধ্যে লুকা দ্বিতীয়। তার মা ভেরোনিক ফের্নান্দেস স্প্যানিশ।
লুকার বড় ভাই এন্সো এবং ছোট দুই ভাই তেও ও এলিয়াজও ফুটবলার। তবে কেউ বড় পর্যায়ে যেতে পারেননি সেভাবে।
৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এন্সো রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমি হয়ে ‘সি’ দল ও ‘বি’ দলে খেলেছেন নিয়মিত। পরে মূল স্কোয়াডে জায়গা পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পরে খেলেছেন আরও সাত-আটটি ক্লাবে।
২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার তেও রেয়ালের একাডেমি ও ‘বি’ দল হয়ে এখন খেলছেন স্পেনেরই ক্লাব কর্দোভায়।
১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার এলিয়াজ রেয়াল মাদ্রিদ ও রেয়াল বেতিসের একাডেমি হয়ে এখন খেলছেন বেতিসের ‘বি’ দলে।