Published : 19 Nov 2025, 06:26 PM
বারবার চোটের ছোবল এবং পারফরম্যান্সের ওঠা-নামায় দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক কঠিন সময় কাটাতে হয়েছে। গত মৌসুমের শেষ ভাগে এসে তো ক্যারিয়ারের শেষই দেখে ফেলেছিলেন ক্রেইগ গর্ডন। ৪২ বছর বয়সে এসে তিনিই এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর; সামনে যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি।
দেশকে ২৮ বছরে প্রথম বিশ্বকাপে তোলার পেছনে তার অবদানও তো বেশ। এই বয়সে সবশেষ দুই ম্যাচে দলের মূল গোলরক্ষক ছিলেন তিনিই।
মঙ্গলবার শেষ হওয়া ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ের শেষ রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষে বারবার মোড় বদলের ম্যাচে ৪-২ গোলে জিতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ আসরের পর আসছে বিশ্বকাপে প্রথম খেলবে স্কটিশরা।
ডেনমার্কের জন্য সমীকরণ ছিল তুলনামূলক সহজ, ড্র করলেই লক্ষ্য পূরণ হতো তাদের। শেষের আধা ঘণ্টার বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলেও, দুইবার পিছিয়ে পড়া থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল তারা। কিন্তু যোগ করা সময়ে কিয়েরান টিয়েরনি ও কেনি ম্যাকলিনের চমৎকার দুই গোলে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটি জেতে স্কটল্যান্ড।
৬ ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের সেরা হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড। আর ক্যারিয়ারে শেষবেলায় এসে সর্বোচ্চ মঞ্চে পা রাখার স্বপ্ন দেখছেন গর্ডন, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ৪৩ বছর পূরণ হবে যার।
চার মাস আগেও অবশ্য পরিস্থিতি ছিল পুরো ভিন্ন। শৈশবের ক্লাব হার্টসে দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি খেলছেন ২০২০ সাল থেকে। যদিও সেখানে শুরুর একাদশে জায়গা অনেক আগেই হারিয়েছেন। গত মৌসুমের শেষে তো ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিবেন কিনা, সেই ভাবনা বেশ ভালোই পেয়ে বসেছিল তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এক বছরের চুক্তি বাড়িয়ে থেকে যান।
যদিও চলতি মৌসুমে এখনও হার্টসে একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি গর্ডন। কিন্তু জাতীয় দলের কোচ স্টিভ ক্লার্ক তার ওপর আস্থা রাখেন। কোচের বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়ে, দলকে বিশ্বকাপে তোলার পথে অবদান রেখে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত গর্ডন।
বিবিসি স্কটল্যান্ডকে দেওয়া ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বললেন, “এটা আবেগের।”
“কঠিন ও দীর্ঘ এক যাত্রা, এই ক্যাম্পে ২০টি বছর, লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাওয়া, যাত্রাপথের কিছু ব্যর্থতা, কিছু খারাপ রাত; কিন্তু আমার মনে হয় না যে কখনও ভেবেছিলাম, এমন ভালো কিছুর অংশ হতে পারব।”
“এই সাফল্যের অংশ হতে পারা অবিশ্বাস্য। পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবার আগে, (এই অভাবনীয় সাফল্যের পর) সবটুকু পুরোপুরি অনুভব করতে একটু সময় লাগবে।”
২০০৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মোট ৮৩টি ম্যাচ খেলেছেন গর্ডন। তবে এই নভেম্বরের আগে তিনি শেষ খেলেছিলেন সেই মার্চে। এরপর তো অবসর নেওয়ার চিন্তাই করছিলেন তিনি। সেটা না করায় এবং এখন এতবড় সাফল্যের অংশ হতে পরায় কোচকে ধন্যবাদ দিলেন তিনি।
“স্টিভ ক্লার্ক আমাকে বলেছিলেন আর একটা বছর খেলা চালিয়ে যেতে, কারণ তার হয়তো আমাকে লাগতে পারে। আমি সবকিছু ছেড়ে দিতে পারতাম। আজ রাতের ওই একটা মুহূর্ত, এর জন্য সবকিছু করা যায়, সকল হতাশা, সকল পরিশ্রম, এতগুলো বছরে আমি যত কিছু চেষ্টা করেছি(সবকিছুই ওই মুহূর্তের জন্য)।”
“৭০০, ৮০০ ম্যাচ, আমি যত ম্যাচই খেলেছি, এই একটা মুহূর্তের জন্য।”