ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
Published : 10 Nov 2025, 12:32 AM
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ জয়ের পর ঘরোয়া লিগে ফিরে পথ হারিয়ে ফেলল লিভারপুল। শুরুতে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়া ছাড়া আর তেমন কিছু করতে পারল না তারা। ওই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দলকে এগিয়ে নিলেন আর্লিং হলান্ড। পরে গোলের দেখা মিলল আরও দুটি। দাপুটে জয়ে পয়েন্ট তালিকায় দুই নম্বরে উঠল ম্যানচেস্টার সিটি।
কোচিং ক্যারিয়ারে পেপ গুয়ার্দিওলার এক হাজারতম ম্যাচের উপলক্ষ দারুণ জয়ে রাঙালেন হলান্ড, জেরেমি ডোকুরা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতল সিটি।
প্রথমার্ধে হলান্ড ও নিকো গন্সালেসের লক্ষ্যভেদের পর দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন ডোকু।
২০২৩ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলকে হারাতে পারল সিটি, মাঝে চার ম্যাচে জয়হীন ছিল তারা।
১১ ম্যাচে সাত জয় ও এক ড্রয়ে সিটির পয়েন্ট হলো ২২। সমান ম্যাচে তাদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল।
আসরে পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ পাওয়া শিরোপাধারী লিভারপুল ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে নেমে গেল। লিগে টানা চার হারের পর গত রাউন্ডে জিতলেও, আবার পরাজয় সঙ্গী হলো আর্না স্লটের দলের।
স্কোরলাইন যেমন, আক্রমণেও তেমন দাপট দেখায় সিটি। গোলের জন্য তাদের ১৪ শটের ৬টি ছিল লক্ষ্যে। লিভারপুলের সাত শটের একটি মাত্র লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের নবম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগে পেনাল্টি পায় সিটি। বাঁ দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের দুই জনের বাধা এড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ডোকু। লিভারপুল গোলরক্ষক জিওর্জি মামারদাশভিলির বাড়িয়ে দেওয়া পায়ের সঙ্গে পা লেগে মাটিতে পড়ে যান বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।

পরে ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি, আর হলান্ডের স্পট কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মামারদাশভিলি।
২০২৩-২৪ মৌসুমের শুরু থেকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে মামারদাশভিলির (৬) চেয়ে বেশি পেনাল্টি সেভ করতে পারেননি আর কোনো গোলরক্ষক।
প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচটি পেনাল্টির চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হলো সিটি।
গোলের দেখা পেতে খুব বেশি সময় অবশ্য অপেক্ষায় থাকতে হয়নি সিটিকে। ২৯তম মিনিটে ডান দিক থেকে মাথিয়াস নুনেসের ক্রসে হেডে দলকে এগিয়ে নেন হলান্ড।
এবারের লিগের সর্বোচ্চ স্কোরার ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের গোল হলো ১১ ম্যাচে ১৪টি। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ১০৮ ম্যাচে তার গোল এখন ৯৯টি।
আর এই মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে তিনি করলেন ২৮ গোল।
আক্রমণে নিষ্প্রভ হয়ে থাকা লিভারপুল ৩৮তম মিনিটে আনন্দের উপলক্ষ পেলেও তা ভিএআরে হতাশায় রূপ নেয়। কর্নারে বক্সে হেডে বল জালে পাঠান ভার্জিল ফন ডাইক। তখন গোললাইনে দাঁড়ানো অ্যান্ডি রবার্টসন ছিলেন অফসাইড পজিশনে। তিনি বল স্পর্শ করেননি, জালে যাওয়ার সময় মাথা নিচু করেন। তবে গোলরক্ষকের পথে ‘বাধা হয়ে দাঁড়ানোয়’ গোল মেলেনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সিটি। বক্সের বাইরে থেকে নিকো গন্সালেসের শট লিভারপুল ডিফেন্ডার ফন ডাইকের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়।
৬৩তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা কার্যত শেষ করে দেয় সিটি। ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলেতে থাকা ডোকু করেন চোখধাঁধানো এক গোল। নিকো ও’রাইলির পাস বক্সের বাইরে পেয়ে, জায়গা বানিয়ে দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগে ২৪ ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন ডোকু। মিনিট দশেক পর তাকে তুলে ওমার মার্মাউশকে নামান কোচ।
৭৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দমিনিক সোবোসলাইয়ের জোরাল শট দারুণ নৈপুণ্যে ফিরিয়ে দেন সিটি গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। লক্ষ্যে লিভারপুলের একমাত্র শট এটিই।
বাকি সময়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি কেউ।