Published : 09 Apr 2026, 04:43 PM
বার্সেলোনার বিপক্ষে চার দিন আগে হারতে হয়েছিল ঘরের মাঠে। এবারের মঞ্চ ছিল আরও বড়, লড়াইটাও প্রতিপক্ষের আঙিনায়, যেখানে ২০ বছরে কোনো জয়ের অভিজ্ঞতা ছিল না আতলেতিকো মাদ্রিদের। সেখানেই প্রতিপক্ষের আক্রমণের ঝড় সামলে স্মরণীয় সাফল্য পাওয়ার পর, নিখুঁত ফুটবল খেলায় দলের প্রশংসা করলেন ক্লাবটির কোচ দিয়েগো সিমেওনে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে লড়াইটা ছিল কাম্প নউয়ে, যেখানে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০০৬ সাল থেকে কোনো জয় ছিল না আতলেতিকোর। সবশেষ লা লিগায় ঘরের মাঠের মুখোমুখি লড়াইয়ে ২-১ গোলের পরাজয়ের হতাশাও ছিল সঙ্গী তাদের।
তবে, সব প্রতিকূলতা সামলে বুধবার রাতে দারুণ দৃঢ়তায় নিজেদের মেলে ধরে আতলেতিকো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জুলিয়ানো সিমেওনেকে পেছন থেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। এতে অধিকাংশ সময় এক জন কম নিয়ে খেলতে হলেও, আক্রমণে আধিপত্য করে বার্সেলোনা।
৫৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। সেখানে আতলেতিকো নিতে পারে মোটে পাঁচ শট, এর তিনটি লক্ষ্যে রেখেই বাজিমাত করে দলটি। কুবার্সির ওই লাল কার্ডের ঘটনায় পাওয়া ফ্রি কিকে হুলিয়ান আলভারেসের চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে দ্বিতীয় গোলটি করেন আলেকসান্দার সরলথ।
প্রবল চাপের মুখে ঘর সামলে রেখে, পাল্টা আক্রমণে তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারায় খুব খুশি আতলেতিকো কোচ।
“এটা সত্যি যে, আমাদের এখানে আগে জয় ছিল না। এখানে জেতা খুব কঠিন। বার্সেলোনা হয়তো পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে যৌথভাবে ইউরোপের সেরা দল। দলগত ফুটবলে আমরা ভালো করেছি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা তাদেরকে আঘাত করেছি, আর দ্বিতীয় গোলটা আমাদের নিরাপত্তা দেয়।”
তবে ব্যবধান আরও বড় করতে না পারার হতাশাও আছে সিমেওনের।
“(দ্বিতীয়ার্ধে) আমাদের যে একজন বেশি ছিল, সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদেরকে আরেকটু বেশি আঘাত করতে না পারাটা হতাশাজনক।”
আতলেতিকোর কোচ হিসেবে কাম্প নউয়ে ১৯ বারের চেষ্টায় প্রথম জয়ের দেখা পেলেন সিমেওনে; এখানে আগের ১৮ ম্যাচে সাতটি ড্র ও ১১টি পরাজয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার।
১০ দিনের মধ্যে মোট তিনবার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই দুই দলকে। প্রথমটি ছিল গত শনিবারের ওই লিগ ম্যাচ এবং দ্বিতীয়টি হলো এবারেরটি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ লড়াইয়ের ফিরতি দেখায় আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠে খেলবে আতলেতিকো।
এখানে জয় পাওয়ায় এবং ফিরতি লেগ নিজেদের আঙিনায় হওয়ায় আতলেতিকোর সেমি-ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা জোরাল। তবে, সিমেওনে যেন বেশি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন দলের কাম্প নউয়ের পারফরম্যান্সে।
“ফুটবল দারুণ খেলা, কারণ এখানে নিখুঁত খেলাই আসল এবং আজ আমরা খুবই নিখুঁত ছিলাম। আমরা জানতাম যে তারা ডিফেন্স লাইন উপরে তুলে খেলবে। আমরা এমন দল, যারা (মুখোমুখি লড়াইয়ে) প্রতি ম্যাচেই তাদের আঘাত করে, আমরা সবসময় সুযোগ তৈরি এবং গোল করি।”
“লড়াইটা কঠিন ছিল, এখানে তারা (চলতি মৌসুমে) ২৩ ম্যাচ খেলে ২২টিতেই জিতেছে…এটা ভালো ফল। তারা এমন প্রতিপক্ষ, যারা নিশ্চিতভাবে মঙ্গলবার আমাদের ভোগাবে।”
'এটা লাল কার্ড হয় না, আমি নিয়মটা বুঝি'
ঘরের মাঠে হারের ম্যাচে রেফারির যে দুটি সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ফ্লিক