চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 09 Apr 2026, 04:29 PM
গোলরক্ষক বক্সেই পাস বাড়ালেন সতীর্থ ডিফেন্ডারকে। দেখে মনে হচ্ছিল, খেলা শুরু। কিন্তু না! মার্ক পুবিল বল হাত দিয়ে ধরে ফের গোলরক্ষক হুয়ান মুসোকে পাস দিলেন। আতলেতিকো মাদ্রিদের খেলোয়াড়ের এমন কাজে রেফারি ও ভিএআরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ ঝারেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তার মতে, ওই কাণ্ডে পুবিলের লাল কার্ড ও বার্সেলোনার পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে বুধবার ঘরের মাঠে আতলেতিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যায় বার্সেলোনা। সফরকারীদের হয়ে দুই অর্ধে গোল দুটি করেন হুলিয়ান আলভারেস ও আলেকসান্দার সরলথ।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পুবিলের হাত দিয়ে বল থামানোর বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। আগেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। ভিএআরে বিষয়টি রিভিউ না করায় অবাক ফ্লিক। ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
“আমি জানি না ওই সময় আসলে কী হয়েছিল, যখন গোলরক্ষক খেলা শুরু করার পর, ডিফেন্ডার বল হাত দিয়ে থামিয়ে পুনরায় খেলা শুরু করে। তবে আমার চোখে এটা স্পষ্ট লাল কার্ড পাওয়ার মতো ঘটনা, মানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, সঙ্গে পেনাল্টি। ভিএআর কেন এটা রিভিউ করল না, সেটার ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার।”
“আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না, এমন কাণ্ডের জন্য লাল কার্ড দেখানো হলো না। ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছে, আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তবে আমাদের মেনে নিতে হবে এবং আগামী মঙ্গলবার আমরা লড়াই করব।”
ম্যাচের প্রথমার্ধে লাল কার্ড দেখেন বার্সেলোনার ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। বক্সের বাইরে জুলিয়ানো সিমেওনেকে পেছন থেকে ফাউল করায় প্রথমে হলুদ কার্ড পান তিনি। পরে মনিটরে দেখে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
আর ওই ফ্রি-কিকেই দারুণ গোলে আতলেতিকোকে এগিয়ে নেন আলভারেস। সঙ্গে একটি রেকর্ডও গড়েন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক আসরে আতলেতিকোর হয়ে সর্বোচ্চ ৯টি গোল করলেন তিনি।
পরে ৭০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি নামা সরলথ। ২০০৬ সালের পর প্রথম কাম্প নউয়ে বার্সেলোনাকে হারাতে পারে আতলেতিকো।
সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন ফ্লিক।
“তারা দুটি গোল করেছে, তাদের আক্রমনভাগে দারুণ মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। জানি, তাদের আটকানো সহজ নয়। তবে প্রথম গোলটির সময় আরও ভালোভাবে রক্ষণ সামলানো উচিত ছিল।”
“আমরা লাল কার্ড দেখেছি এবং এরপরই আতলেতিকো গোল করল…ভিএআর আজ আতলেতিকোর জন্যই বেশি মনোযোগী ছিল। সে জার্মান রেফারি, তাই ধন্যবাদ জার্মানি।”
ম্যাচটির বেশিরভাগ সময়ই আক্রমণে আধিপত্য করে বার্সেলোনা। মার্কাস র্যাশফোর্ড একাই সাতটি শট নেন গোলের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মুসোর বাধা অতিক্রম করতে পারেননি তিনি ও তার সতীর্থরা। এদিন সাতটি সেভ করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মুসো।
হারলেও দলের পারফরম্যান্সে খুশি ফ্লিক। ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
“প্রথমার্ধে আমরা অনেক ভালো খেলেছি, দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়েও দারুণ খেলেছি। ১০জন নিয়েও নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়েছি, তবে ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না।”
“(দ্বিতীয় লেগে) আমরা লড়াই করব। এখনও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। সেমি-ফাইনালে ওঠা এখন অনেক কঠিন, তবে আমাদের এখনও সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করে যাব।”
'এটা লাল কার্ড হয় না, আমি নিয়মটা বুঝি'
'নিখুঁত' পারফরম্যান্সে কাম্প নউয়ে প্রথম জয়ের উচ্ছ্বাস সিমেওনের