০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সিটির সাফল্য এখন কলঙ্কিত কিনা প্রশ্নে মারেস্কা বললেন, ‘একদমই না’

একই প্রসঙ্গে নানাভাবে বারবার প্রশ্ন করা হলো ম্যানচেস্টার সিটি কোচকে; কিন্তু নিজের ভাবনা থেকে একটুও সরলেন না তিনি।

সিটির সাফল্য এখন কলঙ্কিত কিনা প্রশ্নে মারেস্কা বললেন, ‘একদমই না’

ম্যানচেস্টার সিটি কোচ এন্টসো মারেস্কা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 07:35 PM

Updated : 09 Oct 2026, 07:40 PM

দুই দিন পর সামনে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ লিভারপুল। তবে শুক্রবার ম্যানচেস্টার সিটির সংবাদ সম্মেলনে বেশিরভাগ সময় জুড়ে থাকল ক্লাবটির প্রিমিয়ার লিগের আইন ভাঙার দায়ে দোষী প্রমাণিত হওয়ার প্রসঙ্গ। ওই নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাবটির অর্জিত শিরোপাগুলোর গায়ে কি এখন দাগ পড়েছে, সফল অধ্যায়গুলোয় কলঙ্কের ছায়া পড়েছে?- এমন নানা প্রশ্নের মুখে পড়লেও, বিচলিত হলেন না সিটি কোচ এন্টসো মারেস্কা।

বরং ক্লাবের মান অক্ষত রাখতে যেন ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন এই ইতালিয়ান। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বললেন, ক্লাবের ওপর কঠিন শাস্তির খড়গ নেমে আসার শঙ্কা থাকলেও, তা তার দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

সিটির ডাগআউটে এর আগেও এক দফায় ছিলেন মারেস্কা, ২০২২-২৩ মৌসুমে পেপ গুয়ার্দিওলার সহাকারি হিসেবে। সেই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল জিতেছিল তারা। এরপর, গত মৌসুম শেষে গুয়ার্দিওলা বিদায় নিলে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন মারেস্কা।

তার কোচিংয়ে এরই মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে সিটি। সবগুলোয় জিতে টেবিলের শীর্ষে আছে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ কাপেও করেছে শুভসূচনা। তবে এবারই সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় নামতে যাচ্ছে দলটি। কারণ মাঝে চলা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতির সময়, তাদের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক আইন ভাঙার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিশন।

এখন শাস্তি ঘোষণার অপেক্ষা। যদিও ইতোমধ্যে আপিল করেছে সিটি।

অ্যানফিল্ডে রোববার লিভারপুলের মুখোমুখি হবে সিটি। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়।

একদিন আগের সংবাদ সম্মেলনে মারেস্কার দিকে বারবার ওই একই প্রসঙ্গে প্রশ্ন ছুটে গেল। তবে তিনি রইলেন অবিচল।

“সবশেষ এখানে যখন আমি ছিলাম, সেটা ছিল ট্রেবল জয়ের মৌসুম (২০২২-২৩)। সেই সাফল্য অর্জনে খেলোয়াড়রা কতটা পরিশ্রম করেছিল, ক্লাবের প্রচেষ্টা কতটা ছিল, প্রধান কোচ পেপ কী করেছিল, আমি জানি। সুতরাং আমি ভালোমতোই জানি, সেই লক্ষ্য পূরণ করতে ক্লাবের সবাই কী পরিমাণ চেষ্টা করেছিল। তাই এ ব্যাপারে (ক্লাবের নিবেদন নিয়ে) আমার মনে কোনো দ্বিধা নেই।”

এরপর সরাসরি তাকে প্রশ্ন করা হয়, ক্লাবের সেইসব অর্জনে এখন কলঙ্কের দাগ লেগেছে? উত্তরে মারেস্কা বলেন, “একদমই না।”

সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের বিশদ তদন্তে ২০২৩ সালে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়। দীর্ঘ তদন্তে একটি বাদে সব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের সময়কালের। ওই সময়ে মোট তিনটি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে তারা, সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি শিরোপা। পাশাপাশি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে ক্লাবটির বিরুদ্ধে।

তদন্ত কমিশন তাদের মতামত জানানোর পর থেকে, ক্লাবটির বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে অনেকে। কারো মতে, তাদের শিরোপা কেড়ে নেওয়া উচিত, আবার কেউ তাদের নিচের স্তরে নামিয়ে দেওয়ার পক্ষে।

তবে গত জুনে সিটির দায়িত্ব নেওয়া মারেস্কা ক্লাবের মালিকদের পক্ষেই কথা বললেন। এটাও জানালেন যে, তার সঙ্গে চুক্তির সময় এসব বিষয় আলোচনাতেই আসেনি।

“আমি ক্লাবকে বিশ্বাস করি, কারণ এর সঙ্গে জড়িত মানুষদের ওপর আমার আস্থা আছে। একারণেই আমি এই ক্লাবে যোগ দিয়েছি।

“আর এমন কোনো ক্লাবও নেই যে সেখানে আমি যেতে চাইব। তাই এখানে আমি খুব আনন্দে আছি। প্রথম দিন থেকেই এখানে থাকতে পেরে আমি গর্বিত।”

সিটিকে সাফল্যের শীর্ষে তোলা গুয়ার্দিওলা ২০২২ সালের মে মাসে একবার বলেছিলেন, তিনি যদি জানতে পারেন যে ক্লাব তাকে মিথ্যা বলেছে, তাহলে চলে যাবেন তিনি।

মারেস্কাকে প্রশ্ন করা হয়, তারও কি ভাবনা এমন?

৪৬ বছর বয়সি এই কোচ অবশ্য ওইরকম ‘যদি’ বিবেচনায় নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

“আমরা যখন আপিলে জিতব, তখন আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলব।

“এখন এসব নিয়ে কথা বলার কোনো মানে হয় না, কারণ আমার কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তবে আমি বুঝতে পারছি আপনারা অনেকেই এখানে কেন, কারণ আপনারা অনেকেই কিছু শুনতে চান। কিন্তু না (আমি তেমন কিছু বলব না)।”