আন্তর্জাতিক ফুটবল
Published : 07 Sep 2025, 07:23 PM
প্রথম ম্যাচের ধকল কাটিয়ে উঠতে রোববার ছিল রিকভারি। সকালে হোটেলের ফিটনেস সেন্টারে হালকা অনুশীলনে দিন পার করেছেন জামাল-তারিকরা। হোটেলের লবিতে দেখা গেল সুজন হোসেন ও মিতুল মারমা পায়চারি করছেন। চারদিকের আবহে যেন কঠিন লড়াইয়ে ড্র করতে পারার স্বস্তি। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে এসে রহমত মিয়া দলের সাদামাটা পারফরম্যান্সকে ‘ডিফেন্ড’ করতে চাইলেন। হামজা চৌধুরী, শোমিত সোমের অনুপস্থিতিতে অনেক কিছু করতে না পারার ব্যর্থতাও তিনি মেনে নিলেন অকপটে।
দশরথ স্টেডিয়ামে শনিবার নেপালের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্র করে বাংলাদেশ। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিন বিশ্রাম নিয়ে সোমবার ফের মাঠের অনুশীলনে ফিরবেন তপু-ইব্রাহিম-রহমতরা। নেপাল অবশ্য বিশ্রাম নেয়নি, রোববারও তারা প্রস্তুতি নিয়েছে।
প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন, দ্বিতীয় ম্যাচের লক্ষ্যসহ আরও অনেক বিষয়ে কথা বললেন রহমত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
প্রথম ম্যাচের ড্র নিয়ে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বলেছেন তিনি খুশি। আপনারা?
রহমত মিয়া: প্রতিটা ম্যাচে প্রতিটা দিনে উন্নতি করার সুযোগ থাকে। প্রতিটা খেলোয়াড় চেষ্টা করে নিজেদের জায়গা থেকে মাঠে ভালো করার। তো আমরা এখানে আসার আগে যে অনুশীলন করেছিলাম, চেষ্টা ছিল ম্যাচে সেটাই প্রতিফলিত করার। কিন্তু স্কোর, ফলাফল নির্ভর করে ভাগ্যের ওপরও।
আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের ফরোয়ার্ডরা আলাদা ভাবে চেষ্টা করছে স্কোর করার জন্য। আমাদের অনেক ড্রিল, সেট পিস করানো হয়। আমরা সুযোগ তৈরি করছি, তবে গোল পাচ্ছি না। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা চেষ্টা করছি ভালো করার এবং ভালো ফলাফল আনার।
হামজা চৌধুরী, শোমিত সোমদের অনুপস্থিতি কি দলকে ভোগাচ্ছে?
রহমত: অবশ্যই আমাদের মুল দলের অনেকে নেই, তবে গেল চার-পাঁচ বছর ধরে দলের সাথে যারা রয়েছে, তারা সবাই আছে। তবে বিশেষ কয়েকজন যেমন শোমিত সোম নেই, হামজা আসতে পারেনি, অনুর্ধ্ব ২৩ দলে কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছে। তো সব মিলিয়ে…তবে যারা আছে তারাও কিন্তু লম্বা সময় ধরে দলের সাথে রয়েছে।
মুলত এই ম্যাচ কিংবা দেশে অনুশীলন ক্যাম্প, সব কিছুর মুল লক্ষ্যই কিন্তু আগামী মাসের হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে, ওই ম্যাচে কীভাবে ভালো করতে পারি এবং এখান থেকে যদি ভালো ফলাফল নিয়ে যেতে পারি, এইটা আমাদের জন্য বুস্ট আপ হবে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে।
হংকং ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে নেপালকে যেভাবে ভেবেছেন, সেই ভাবনায় মিল আছে কিনা।
রহমত: নেপাল কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে, কম্পিটিটিভ ম্যাচ খেলেছে, কিছুটা হংকং এর সাথে মিল রয়েছে। পাশাপাশি নেপালের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাটিতে এসে খেলা সহজ নয়। যারা আগে এসেছে এবং খেলেছে, তারা বলতে পারবে। তো এটা সহজ নয় নেপালের মাঠে এসে তাদের সঙ্গে লড়াই করা। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের দল ভালো করছে এবং সামনেও ভালো করবে।
নেপালে কিসের (কী অসুবিধার) মুখোমুখি হতে হয়?
রহমত: এখানে মাঠের অবস্থা ভালো না। বাইরে থেকে যেমনটা দেখা যায়, ভেতরটা কিন্তু সেই রকম নয়। মাঠটা ভারী এবং ধীর গতির, বড় বড় ঘাস পাশাপাশি পানিও দেওয়া থাকে না। সাধারণত আমরা দেশে যখন অনুশীলন করি, তার আগে মাঠে পানি দিয়ে নেই। আগে করেছি কিংস অ্যারেনাতে, এখন জাতীয় স্টেডিয়ামে করি। সবখানেই আমরা অনুশীলন বা ম্যাচের আগে পানি দিয়ে নেই মাঠ দ্রুত হওয়ার জন্য। আর এখানের মাঠ এমনিতেই ভারী, তার সঙ্গে ঘাস বড় আবার পানিও দেয় না। এইটা তো আছেই, পাশাপাশি উঁচু জায়গারও (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার) বিষয় রয়েছে বাংলাদেশের তুলনায়। আর নেপালের ঘরের মাঠে তারা সবসময় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তো সব প্রতিকুলতার মধ্যেও আমাদের দল ভালো করছে, সামনেও করবে।
দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের আগে কোথায় উন্নতি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন আপনি?
রহমত: রাতে ম্যাচ খেলে আসার পর আজ সকাল থেকে ট্রিটমেন্ট, রিকভারি সেশন, সুইমিং, জিম এমন আলাদা আলাদা কর্মসূচি করা ছিল। তো এখন পর্যন্ত প্রথম ম্যাচের ফিডব্যাক দেওয়া হয়নি। এমনিতে আমাদের প্রতিটা ম্যাচ কিংবা অনুশীলনের ভিডিও থাকে। পরবর্তী ম্যাচে আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেসবের ভিডিও কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের কাছে আছে। আমরা রিকভারি সেশন শেষ করে যখনই সময় পাবো, তখনই তারা আমাদের জানাবে আসলে আমাদের কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে আর কোথায় আরও উন্নতি করতে পারি।
নেপালের চাপে শুরুতেই রক্ষণভাগ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। অধিকাংশ সময় খেলাও হয়েছে বাংলাদেশের অর্ধে। হামজা-শোমিত নেই, এমন ভেবে নিয়ে মাঠে নামার কারণেই কী এগুলো হয়েছিল?
রহমত: আসলে আমরা সেইরকম ভাবে এটা ভাবিনি। অবশ্যই হামজা দলে আসলে এটা আমাদের বুস্টআপ করে, তিনি থাকলে আমরা আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাই। যেহেতু এখানে হামজা নেই, তাই যারা আছে তাদের নিয়েই খেলতে হবে। আর যেটা বললাম মাঠের বিষয়ে। শেষ দিন আমরা যখন এই মাঠে অনুশীলন করেছিলাম, তার আগে কিন্তু বৃষ্টি হয়েছিল, তো ওই সময় যে পাস দিতে পারছিলাম, সেটা ম্যাচের দিন হচ্ছিল না। তাই প্রথম ১০ মিনিট মানিয়ে নিতে পারছিলাম না আমরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই ম্যাচে ফিরেছে।
আক্রমণও দেখা যায়নি তেমন একটা। শোমিত না থাকায় মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলেই এটা হয়েছিল?
রহমত: স্বাভাবিকভাবেই শোমিত-হামজা আমাদের থেকে ভালো মানের খেলোয়াড়। তো তারা মাঠে থাকা মানেই দলের পারফর্মম্যান্সে আরও ভালো প্রভাব পড়া। তো স্বাভাবিকভাবেই তারা মাঠে থাকলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বেশি বল পাবে। কিন্তু এই ম্যাচে আমাদের যে মিডফিল্ডাররা ছিল তারাও চেষ্টা করেছে পারেনি, পরবর্তী ম্যাচে আবার চেষ্টা করবে।
নেপাল সফরে আসা অনেকেই হয়ত হংকং ম্যাচে থাকবে না। হামজা-শোমিতও নেই। তাহলে আপনি কি মনে করেন, হংকং ম্যাচের প্রস্তুতি ঠিকঠাক হচ্ছে?
রহমত: এখন আমাদের হংকং ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য সময় আছে এক মাসের বেশি। তো হামজা-শোমিত তারা সামর্থ্যবান, অল্প সময়ে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। আমার মনে হয়, কোচ ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ওই ম্যাচ নিয়ে আমাদের কী পরিকল্পনা, হয়তো তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আমরা যতটুকু জানি। তাই আমার মনে হয়, কোনো কমতি থাকবে বা আমাদের দলের মধ্যে কোনো প্রভাব পরবে।
আরও পড়ুন