Published : 07 Sep 2025, 09:13 PM
সকালে টিম হোটেলের ফিটনেস সেন্টারে হালকা অনুশীলন, টিম মিটিং, ভিডিও সেশন-এগুলো করেই রোববার দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। একেবারে ভিন্ন চিত্র নেপাল শিবিরে। দুই দল আছে কাঠমাণ্ডুর একই হোটেলে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, টিম বাসে করে কিরণ-অঞ্জনরা হোটেল ছাড়ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রস্তুতি নিতে রওনা দিচ্ছেন তারা। দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের আগে দুই দলের এই দিনের কার্যক্রমে এমনই ভিন্নতা!
শনিবার প্রথম ম্যাচের গোলশুন্য ড্র ফল নিয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা এদিন বিশ্রাম দিয়েছেন জামাল-তপুদের। দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য মাঠের অনুশীলন শুরুর আগে রিকভারিতে দিয়েছেন গুরুত্ব।
নেপালের অস্ট্রেলিয়ান কোচ ম্যাট রস হাঁটেননি সে পথে। ধকল কাটানোর সুযোগ না দিয়ে শিষ্যদের নিয়ে তিনি ছুটেছেন মাঠে। এর কারণটাও তিনি বলেছিলেন প্রথম ম্যাচের পরই-দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ শক্তভাবে ফিরে আসবে।
দশরথ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। সোমবার মাঠের অনুশীলনে নামবে বাংলাদেশ। তবে এই মুহূর্তের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে ভিন্ন কিছু বিষয়! একটি যেমন, নেপালের বিপক্ষে এই সফর আদৌ দুই ম্যাচের হিসাব নাকি সিরিজ? দ্বিতীয় ম্যাচের ফলও ড্র হলে নেপালের ভাবনা নাকি টাইব্রেকারে শিরোপা রফা করার। এ নিয়ে এখন দুই পক্ষে কথাবার্তা চলছে। টিম ম্যানেজার আমের খান জানালেন, নেপালের প্রস্তাবে এখনও সাড়া দেননি তারা।
“সত্যি বলতে, এখানে তারা বলছে, আমরা একটা সিরিজ খেলছি। এখন পর্যন্ত কিন্তু অফিসিয়ালি আমরা মেনে নেইনি। যেহেতু আমরা ফিফা টায়ার-ওয়ান ম্যাচ খেলতে এসেছি, সেটাই তাদের সাথে কথা হয়েছে। প্রথম ম্যানেজার্স মিটিংয়েও এই কথা হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি, যতক্ষণ না আমি বাফুফের কাছ থেকে কনফার্ম হবো (সিরিজের ব্যাপারে), ততক্ষণ আমরা এটা ফিফা টায়ান-ওয়ান ম্যাচ ধরেই খেলব।”
“কেননা, এখানে পয়েন্টের ব্যাপার আছে। আমরা তো এসেছি, এখানে খেলে পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে। এ কারণে দ্বিতীয় ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। তবে আমরা যদি এটাকে সিরিজ না মানি, তাহলে আমরা ট্রফি নিতেও যাবো না। হয়ত, আগামীকালের মিটিংয়ে এ বিষয়ে সুরাহা হবে।”
এগুলো ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা অবশ্য আগামীকাল বাড়তি দৃষ্টি দিবেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও মিতুল মারমার দিকে। দুজনেই চোটে আক্রান্ত।
দেশে থাকতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন ফাহিম, গত দুদিন ফিজিওর সাথে আলাদা কাজ করেছেন তিনি। অনুশীলনও করেছেন হালকা পাতলা। কুঁচকির চোটে ভুগছেন মিতুল। ফাহিমের মতো তিনিও খেলেননি প্রথম ম্যাচে। দুজনের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার সম্ভাবনার প্রশ্নে টিম ম্যানেজার নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
“মিতুল ও ফাহিমের যে চোট আছে, সেই ব্যাপারে আমাদের ট্রেনার, ডাক্তার ও ফিজিও তারা সবাই সতর্ক ছিল। প্রথম ম্যাচে তারা খেললে যদি চোট আরও গুরুতর হয়, তাই তাদেরকে রিজার্ভ রাখা হয়েছিল। আজকে সকালে দেখলাম, গতকালও ওরা অল্প অনুশীলন করেছে। আগামীকাল অনুশীলনে গিয়ে আমরা বুঝতে পারব তাদের সার্বিক অবস্থা কী?”
দলের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ অবশ্য গণমাধ্যমকর্মীদের দিচ্ছেন না কাবরেরা। ঢাকায় তিনি অধিকাংশ সময় অনুশীলন সেরেছেন ‘ক্লোজ-ডোরে’। পুলিশ এফসির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ তিনি খেলেছিলেন ‘ক্লোজ-ডোরে’, অথচ সেই ম্যাচে পুলিশের গোলরক্ষক ছিলেন নেপাল দলের অধিনায়ক কিরণ চেমজং!
নেপালেও খেলোয়াড়দের কাবরেরা রেখেছেন ‘কড়া পাহারায়’। টিম হোটেলের লবিতে মিতুল-সুজনের দেখা মিলেছে এক ঝলক। এই ঘোরাফেরাতেও নাকি কড়াকড়ি দিয়েছেন কোচ। তবে টিম ম্যানেজার আমের খান জানালেন দলের আবহ ভালো। জয় দিয়ে আগামী অক্টোবরের হংকং ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি সারতে মরিয়া দল।
“ড্রও একটা প্রাপ্তি। সব মিলিয়ে সবাই জিততে চাই, আমরাও জিততে চেয়েছিলাম। হয়ত যে গোলটা আমরা করেছিলাম, অফসাইডের কারণে হয়নি, ওটা গোল হলে….কিংবা ওরা যে গোলগুলো মিস করেছে, সেটা হলে আমরা হেরে যেতে পারতাম। যেটা হয়েছে, সেটা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। এখন আমাদের লক্ষ্য শেষ ম্যাচ। সেভাবেই তৈরি হচ্ছি মানসিকভাবে। দ্বিতীয় ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে।”
প্রশ্নটাও উঠছে এখানে। জয়ের জন্য কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ? নেপাল দল যখন অনুশীলনের জন্য মাঠের পানে ছুটছে, তখন জামাল-তারিক-তপুরা যে হোটেলে।
আরও পড়ুন