Published : 25 Dec 2025, 09:14 PM
ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানো জিনেদিন জিদান যে উচ্চতায় আছেন, সেখানে আপাতত কাউকে দেখছেন না ফ্রঁক লেবাফ। বিশ্বকাপ জয়ী এই ফরাসি ডিফেন্ডারের মতে, ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও কিলিয়ান এমাবাপে পূর্বসূরির সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন না।
গোল ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিদান, এমবাপে, ব্যালন দ’র সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন লেবাফ।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতেন এমবাপে, তখনও তিনি একজন টিনএজার। চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপেও দলকে নিয়ে যান ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে গড়েন ইতিহাস; কিন্তু টাইব্রেকারে হেরে ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্ন ভাঙে তার।
পিএসজির ইতিহাসের সফলতম গোলদাতা এমবাপে। ফ্রান্সের ক্লাবটির হয়ে তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ২৩৫ গোল। এখন রেয়াল মাদ্রিদে আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল অলিভিয়ে জিরুর (৫৭)। তিনটি গোল হলেই তাকে ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপে।
২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হবে কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে লেবাফ বললেন, জিদানের সঙ্গে তুলনীয় কেউ নেই এখন পর্যন্ত।
“অবশ্যই নয়। তার (জিদান) সঙ্গে তুলনীয় নয় সে। বিভিন্ন সময়ের ফুটবলারদের মধ্যে তুলনা করা আসলে কঠিন। কিন্তু জিজুর যে সামর্থ্য ছিল, অসাধারণ খেলোয়াড় হওয়ার পরও তার যেমন আচরণ ছিল- এমনকি ২০০৬ সালে তার ভুলের পরও- মানুষ তাকে ভালোবাসে। কিলিয়ান এমবাপের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে, ফ্রান্সের কিছু মানুষ এতে ক্ষুব্ধ।”
“জিদান যে উচ্চতায় আছে, সেখানে সে (এমবাপে) কখনও যেতে পারবে না, সম্ভবত কেউই পারবে না। নিজের সময়ে মিশেল প্লাতিনিও সেরা ছিল, তার আগে ছিল রেমোঁ কোপা। এই খেলোয়াড়রা হলো আইকন। কেবল এমবাপের ক্যারিয়ার শেষ হলেই আমরা বুঝতে পারব যে, তাকে একই পর্যায়ে রাখা যায় কিনা।”
এমবাপের পারফরম্যান্সেও মুগ্ধ লেবাফ। তবে উত্তরসূরিকে এখনই গ্রেটদের কাতারে দেখেন না তিনি।
“এমবাপে দারুণ খেলোয়াড়। অবশ্যই একজন অসাধারণ খেলোয়াড় এবং বুদ্ধিমান একজন মানুষ। তাকে নিয়ে আমি গর্বিত। তবে, ‘ওয়াও, কী অসাধারণ খেলোয়াড়’ আমাকে এমনটা ভাবাতে হলে তাকে মাঠে আরও পরিশ্রম করতে হবে।
“সে দারুণ একজন ফিনিশার। এই মৌসুমে প্রায় প্রতি ম্যাচেই সে গোল করছে, তাকে দলে পাওয়া রেয়ালের জন্য সৌভাগ্যের। তবে তার আরও বেশি কিছু করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বল হরানোর পর পেছন দিকে কিছুটা দৌড়ে যেতে হবে এবং দেখাতে হবে যে সে সতীর্থদের সাহায্য করতে চায়। আধুনিক সময়ে পরিসংখ্যানই সব- আপনি কতগুলো গোল করেছেন, কতগুলো পাস দিয়েছেন, কতটা দৌড়েছেন। আমার কাছে আধুনিক ফুটবল কেমন, এর সেরা উদাহরণ কিলিয়ান এমবাপে। আমি এতে অভ্যস্থ নই, তাই আমি তার কাছ থেকে আরও বেশি কিছু চাই।”