চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 05 May 2026, 04:03 PM
ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতার মুকুট জেতার এটাই শেষ সুযোগ অঁতোয়ান গ্রিজমানের। এরপর যে আমেরিকার ফুটবলে পাড়ি জমাবেন তিনি। আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে মরিয়া। তার বিশ্বাস, ইতিহাসের অংশ হবেন তিনি ও তার দল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে মঙ্গলবার আর্সেনালের মাঠে খেলবে আতলেতিকো। অ্যামিরেটস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে মাঠের লড়াই।
মেত্রোপলিতানোয় দুই দলের প্রথম লেগ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। পেনাল্টি থেকে গোল দুটি করেন আর্সেনালের ভিক্তর ইয়োকেরেশ ও আতলেতিকোর হুলিয়ান আলভারেস। দ্বিতীয় লেগের জয়ী দল পাবে ফাইনালের টিকেট, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে পিএসজি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ।
৩৫ বছর বয়সী গ্রিজমান এবারের গ্রীষ্মে মেজর লিগ সকারের ক্লাব অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দেবেন। চলতি মৌসুমের মাঝেই দল বদলের কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত থেকে যান তিনি।
এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তিনবার খেলে একবারও শিরোপা জিততে পারেনি আতলেতিকো। স্প্যানিশ ক্লাবটি সবশেষ শিরোপার লড়াইয়ের মঞ্চে খেলেছিল ২০১৬ সালে। সেবার মূল ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন গ্রিজমান। তবে টাইব্রেকারে জালের দেখা পান তিনি। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আতলেতিকোর।
আরেকটি ফাইনালে খেলার হাতছানি গ্রিজমানের সামনে। আর্সেনালের বিপক্ষে ফিরতি লেগের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ক্লাবের হয়ে অসাধারণ কিছু করার আশায় এখানে থেকে গেছেন।
“আমি (নিজের সিদ্ধান্তে) পরিষ্কার ছিলাম, এখানে থাকাই আমার লক্ষ্য ছিল, কারণ (আমার মনে হয়েছে) আমরা অসাধারণ কিছু করতে পারি।”
গত মার্চে এমএলএসের ট্রান্সফার উইন্ডোতে অরল্যান্ডোতে যোগ না দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ভালো করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে গ্রিজমান বলেন, “এনিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। আমার মনে হয়েছে, আমরা ঐতিহাসিক কিছু করতে পারি, আবারও ফাইনালে উঠতে পারি এবং দলও সেটা জানে।”
ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন গ্রিজমান। আতলেতিকোর জার্সিতে ইউরোপা লিগ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হয়নি তার।
এক দশক আগের ওই ফাইনালের স্মৃতিচারণ করে গ্রিজমান বলেন, ওই সময় প্রবল চাপে ছিলেন তিনি। তবে এবার ইতিহাস গড়তে আত্মবিশ্বাসী তিনি ও তার দল।
“ওই বছরটি একেবারেই আলাদা ছিল। অনেক চাপে ছিলাম। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছিল এবং আমি জানতাম না কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে হয়। এখন আমি অনেক বেশি পরিণত এবং শান্ত। নির্ভার থেকে এখন ম্যাচ খেলতে নামি এবং অনেক বেশি উপভোগ করি। কিছু মুহূর্ত থাকে যখন মনে হয় ঘুরে দাঁড়াব কিন্তু সেটা হয় না। সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি-ফাইনাল খেলার সুযোগ পায় না... আমরা ইতিহাস গড়তে পারি।”
“যখনই চ্যাম্পিয়ন লিগ শুরু হয়, ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দৃশ্য কল্পনা করে সবাই। প্রতিটি দল, প্রতিটি খেলোয়াড়, এমনকি নিজের ঘরে থাকা প্রতিটি শিশুও এই স্বপ্ন দেখে। আমরাও দেখি। আমরা লক্ষ্য থেকে মাত্র দুই ধাপ দূরে আছি।”