এশিয়ান কাপ বাছাই
Published : 19 Nov 2025, 07:59 PM
জালে বল পাঠিয়ে এর আগেও ছয়বার ডানা মেলেছেন শেখ মোরসালিন; কিন্তু সে উচ্ছ্বাস হয়নি এমন বাঁধনহারা। ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার এই স্বাদ পেলেন তিনি, তার গোলে সওয়ার হয়েই দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশ কাটাল ২২ বছরের জয়খরা। ব্যক্তিগত, দলীয় সব দিক থেকে প্রাপ্তির পূর্ণতায় ভাসলেন মোরসালিন। তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেও পেছনের এক হতাশার স্মৃতি যেন কাঁটা বিঁধছে তার হৃদয়ে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপচারিতায়, গোলের পরের মুহূর্তের বিশেষ প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়েও যেন অন্যরকম এক আবেগ পেয়ে বসল তরুণ মিডফিল্ডারকে। বিশেষ মুহূর্তটি আর কিছু নয়, হামজা চৌধুরীর আলিঙ্গন। সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপণ হয়ে ওঠা ইংল্যান্ড প্রবাসী এই তারকার ভালোবাসা ২০ বছর বয়সী মোরসালিনের কাছে অনেক কিছু।
‘গোলের পর হামজা ভাই আলিঙ্গনে বাঁধলেন। বাহবা দিলেন। এত বড় মাপের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া বিশেষ কিছু। এমনিতেই তিনি খুব অমায়িক মানুষ, গোলের পর যেভাবে আমাকে আলিঙ্গন করলেন, আঁকড়ে ধরেছিলেন, সে অনুভূতি আসলে বলে বোঝাতে পারব না।”
“ভারতের বিপক্ষে এই প্রথম গোল পেলাম। এর আগে ২০১৯ সালে সাদ (উদ্দিন) ভাই গোল করেছিলেন, ওই গোলের কারণে সবার কাছে তিনি আলাদা প্রশংসা পেতেন। আমারও স্বপ্ন ছিল ভারতের মতো বড় দলের বিপক্ষে গোল করার, সেই চাওয়াটা পূরণ হলো। আমার গোলেই দল জিতেছে, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে বলে ভালো লাগাটা আরও বেশি।”
জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে মোরসালিনের করা গোলটিও ছিল চোখ জুড়ানো। রাকিব হোসেনকে বল বাড়িয়ে তিনি এগিয়ে যান বক্সে, এরপর ফিরতি পাস পেয়ে নিখুঁত টোকায় গোলকিপার গুরপ্রিত সিং সান্ধুর পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন বল। ওই সময়ের ভাবনাও জানালেন মোরসালিন।
“এর আগে কুয়েতের বিপক্ষে ম্যাচে এমন করেই বল বাড়িয়ে ছুটে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেবার গোল পাইনি। ভারতের বিপক্ষে পেলাম। ওই দৌড়টা দেওয়ার সময় শুধু ভাবছিলাম, রাকিব ভাইকে বল দিয়েছি, উনি যেভাবে ছুটছেন, কিছু একটা হবে ভেবে আমিও দৌড় দেই।”
“নাটমেগ (দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে নেওয়া) গোল দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। অবশ্য আমি ওই মুহূর্তে এতকিছু ভাবিনি। রাকিব ভাই পাস দিলেন, আমিও পা চালিয়ে দিলাম। বল ওদের গোলকিপারের পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে গেল জালে।”
এই গোলটি সামনের পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও মনে করেন মোরসালিন। তবে ফিরতি লেগের জয়টি শিলংয়ের প্রথম লেগে পেলে এশিয়ান বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের গল্পটি ভিন্ন হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
“ভারতের মতো বড় দলের বিপক্ষে গোল পেলে যে কারো আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমারও বেড়েছে। তবে একটু খারাপ লাগা আছে অন্য কারণে। গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাছাই শুরু করেছিলাম আমরা, ওই ম্যাচ ড্র না হলে যদি এখানকার মতো ফল হতো, তাহলে হয়ত আমরা ভালো কিছু করতে পারতাম। আশা করি, ভবিষ্যতে পারব।”