মৌলভীবাজারে ‘জিন্নী হুজুরের’ নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৪
সোমবার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার রাতে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওবায়দুল হক।
গ্রেপ্তাররা হলেন- বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।
ওসি (তদন্ত) বলেন, ৩ অগাস্ট অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী মোবাইলে বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে বলেন, কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ তার অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং কাউকে কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথামতো বাড়ির পেছনে একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন রোকেয়া। দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখেন, সেগুলো নেই। পরে ফোন করলে তাঁকে বলা হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হবে এবং গয়নাগুলো ফেরত দেওয়া হবে।
এরপর ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে একই জায়গায় আরও স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় দ্বিতীয়বারও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন রোকেয়া। কিন্তু এবারও সেগুলো ফেরত পাননি।
পুলিশ জানায়, দুই দফায় পাঁচ ভরি ছয় আনা দুই রতি দুই পয়েন্ট স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়। এসবের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়ার স্বর্ণের দোকান থেকে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বর্ণালংকার বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রোকেয়া বেগমের অভিযোগে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় মামলা হয়। সোমবার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার রোকেয়া বেগম শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম।
