১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জায়েদার বাড়ি ঘিরে জাহাঙ্গীর-সমর্থকদের উৎসবের দিন

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছেলেকে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান জায়েদা খাতুন।

জায়েদার বাড়ি ঘিরে জাহাঙ্গীর-সমর্থকদের উৎসবের দিন

শুক্রবার সকাল থেকেই গাজীপুরে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানান আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আজমত উল্লা খান।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 May 2023, 09:02 PM

Updated : 26 May 2023, 09:02 PM

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুনকে শুভেচ্ছা জানাতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ভিড় করেন নগরীর ছয়দানা এলাকার বাড়িতে; কারও হাতে ফুলের তোড়া, আবার কারও হাতে মিষ্টির বাক্স। আনুসারীদের আনন্দ-উল্লাস, স্লোগান আর কোলাহলে সারাদিনই মুখরিত ছিল জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি। 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচনের জয়ের ফলাফল নিয়ে অনুসারীদের স্লোগানে স্লোগানে বাড়িতে ঢুকেছিলেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম। মাঝখানের কিছুটা বিরতি দিয়ে ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই সমর্থক নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। তার কিছুটা পরে সেখানে আসেন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও। 

শুক্রবার দিনভর গাজীপুর সিটির ৪৮০টি কেন্দ্রে ইভিমের ভোট গ্রহণের পর রাতে ফলাফল দেয় নির্বাচন কমিশন। বেসরকারি ফলাফলে আজমত উল্লা খান স্বতন্ত্র প্রার্থী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের জায়েদা খাতুনের কাছে ১৬ হাজার ভোটে পরাজিত হন।

জায়েদা খাতুন সিটির বরখাস্ত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের মা। জাহাঙ্গীর নিজেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় সমর্থন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ হলেও ‘ঋণখেলাপী প্রতিষ্ঠানের’ জামিনদার হওয়ায় প্রার্থিতা টিকেনি। পরে মায়ের ‘ছায়াসঙ্গী’ হয়ে নির্বাচনে প্রচার চালিয়ে টেবিল ঘড়ির বিজয় নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার জায়েদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজগুলো তিনি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে করবেন। আগে যখন ছেলে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে তখন তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। এ সময় তিনি পরাজিত প্রার্থী আজমত উল্লা খানের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় জায়েদা খাতুন ভোট সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ছেলেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান।

সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমও বলেছেন, তিনি মায়ের পাশে ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে থেকে গাজীপুরকে সাজাতে চান। বলেন, “জনগণ আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমার যে কাজগুলো বাকি ছিল সেগুলো করার ক্ষেত্রে আমি মাকে সহযোগিতা করব।”

সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নগরীর ছয়দানা (মালেকের বাড়ি) এলাকার জায়েদা খাতুনের বাসায় আসেন। এ সময় তারা সেখানে নেচেগেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। সমর্থকরা একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান।

তারা জায়েদা খাতুনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জাহাঙ্গীরকেও অভিনন্দন জানান। নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়ায় প্রায় সারাদিন এই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে বিজয় মিছিল বলতে যা বোঝায় সে ধরনের কিছু হয়নি। সমর্থকরা জানালেন, নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কারণেই তারা এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেননি।  

সেখানে আসা সমর্থকরা জানান, ভোটের শুরু থেকেই তাদের মধ্যে একটা আশা ছিল জয়ের ব্যাপারে কিন্তু আতঙ্কও ছিল, টেনশন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় পেয়ে তারা খুশি। 

গাজীপুরের মানুষ ভাল ভোট পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তাদের প্রত্যাশা, নগরবাসী নতুন মেয়রের কাছ থেকে ভাল সেবা পাবে।

অনেকেই অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে এই সিটির যাত্রা শুরু হলেও এখনও নগরী গোছানো হয়নি। তাদের প্রত্যাশা নতুন মেয়র সেই কাজটি শুরু করবেন।