এক ঘণ্টার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড শান্তিগঞ্জ উপজেলা

“আমার ঘরের চালের টিন পড়ে হাত কেটে গেছে; সাতটি সেলাই লেগেছে। “

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 04:22 AM
Updated : 1 April 2024, 04:22 AM

ঝড়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক।

রোববার রাত সোয়া ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত ঝড়ের তাণ্ডব চলে বলে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন জানিয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন জানান, ঝড়ে তার উপজেলার পাগলাবাজার, শান্তিগঞ্জ, কামরূপদলং, আস্তমা ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাগলাবাজারে ভেঙে পড়েছে অন্তত ২০টি টিনশেডের দোকান।

নারী ও শিশুসহ অন্তত শতাধিক আহত হয়েছেন জানিয়ে নূর বলেন, “ঝড়ের সময় দোকানের টিন খুলে পড়ে আমি নিজেও আহত হয়েছি।”

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছ ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় সুনামগঞ্জ সদরের ইকবাল নগর, শান্তিগঞ্জ ও পাগলা বাজারে ভেঙে পড়া গাছ সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে রাত ২টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে পাগলা-আউশকান্দি সড়কের ডাবরে ৩৩ কেভি লাইনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন তার খুঁটি নিয়ে ভেঙে পড়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে গাছপালা সড়কে ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কেও গাছপালা ভেঙে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। আহতদের সেবা দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাগলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

পাগলা রায়পুর পুরানবাড়ির হোসেন মিয়া বলেন, “আমার সব শেষ। একমাত্র আশ্রয়স্থল ঘরটি ঝড়ে পড়ে গেছে। আমার পাশের আরও দুটি ঘরও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।”

একই গ্রামের সত্তোরোর্ধ মালিকুন বেগম বলেন, “আমার ঘরের চালের টিন পড়ে হাত কেটে গেছে; সাতটি সেলাই লেগেছে। আমার মত অনেকেই আহত হয়েছে।”

জীবনে এমন ঘূর্ণিঝড় দেখননি বলে পাগলা বাজারের ব্যবসায়ী আমজদ আলীর ভাষ্য, তিনি বলেন, “আমাদের বসতবাড়ি-দোকান সব তছনছ করে দিয়েছে।”

একই কথা জানালেন ওই এলাকার ব্রয়লার মোরগ ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন ও ইফতারির দোকানদার লিটন মিয়া। তারা বলেন, ঝড়ে সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলছেন, “রাত ১টার পর আমরা সড়কের ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে নিয়েছি। তবে ঝড়ে বহু মানুষের কাঁচা ঘরবাড়ি ও টিনশেড ঘর ভেঙে গেছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।

“আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছি। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

Also Read: সিলেট ও সুনামগঞ্জে শিলাবৃষ্টি, ফসলের ক্ষতির শঙ্কা

ঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কী-না, জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, “ঝড়, বজ্রপাত, মাঝারি বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলায় আগাম জাতের বোরো ফসল সামান্য ক্ষতি হতে পারে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ভয়াবহ ঝড়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।