জাবির সাবেক শিক্ষার্থী রুবেল নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে মানববন্ধন
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সিনেট সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "যারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচল করে, তাদের জন্য সেলফি পরিবহন রীতিমত আতঙ্কের নাম।"
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বাসচাপায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রুবেল পারভেজ নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে মানববন্ধন হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচাগামী লেনে এ মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাতে বর্তমান ও সাবেকরাও ছিলেন।
টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার মোকছেদ আলীর ছেলে ও ৪১তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪০ বছর বয়সী মো. রুবেল পারভেজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১০-১১ বর্ষের ছাত্র।
মানিকগঞ্জের ঝিটকা মার্কেন্টাইল ব্যাংকে এমটিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকা রুবেলের মৃত্যু হয় সেলফি পরিবহনের বাসচাপায়।
রুবেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা বিচার চাইতে সড়কে এসে দাঁড়ান। বিচার চাইতে গিয়ে সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি তোলেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সিনেট সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "যারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচল করে, তাদের জন্য সেলফি পরিবহন রীতিমত আতঙ্কের নাম। গতকাল জাবি শিক্ষার্থী রুবেলকে ওই বাস চাপা দিয়ে হত্যা করেছে; এটার বিচার করতে হবে।
“বিচার না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে সেলফি পরিবহন চলতে দেওয়া হবে না। এই গাড়ির চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, "এমন মৃত্যু আমরা আর চাই না। রুবেল পারভেজের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা দিতে পারব না। কিন্তু তার পরিবারের সমস্ত ক্ষতিপূরণ সেলফি পরিবহনকে দিতে হবে এবং এই বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে৷"
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ধামরাই উপজেলার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের থানা বাসস্ট্যান্ড এবং সাভার হাইওয়ে থানার সামনে এই দুর্ঘটনায় রুবেল ছাড়াও আরও দুইজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন দুইজন।
তারা হলেন-মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল মান্নান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার মধুপুর গ্রামের মোহাম্মদ খলিলের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (১৭)।
দুর্ঘটনায় রুবেল ও মান্নানের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থেলেই। আর আরেকজন মারা যান ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
রুবেল মেয়ে ফারিহা আর মাকে নিয়ে ধামরাইয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ধামরাই থেকে হরিরামপুরে গিয়ে অফিস করতেন বলে তার স্ত্রী ফারজানা জানান।
প্রতিদিনের মত সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ধামরাই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন রুবেল। কাজ শেষে ফেরারও কথা ছিলো। কিন্তু সেলফি পরিবহনের বাসচাপায় প্রাণ হারিয়ে আর ফেরা হলো না তার।
