অন্যায় করে হলেও ভোটের খরচ তুলতে চান নাটোরের এমপি, ভিডিও ভাইরাল

সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশটি প্রচার করা হচ্ছে।”

নাটোর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 March 2024, 06:44 AM
Updated : 29 March 2024, 06:44 AM

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খরচ করা এক কোটি ২৬ লাখ টাকা ‘অন্যায় করে’ হলেও তুলতে চান নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

তবে যেকোনোভাবে এই টাকা তোলার পরে আর কোনো অন্যায় করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লালপুর-বাগাতিপাড়ার এই জনপ্রতিনিধি।

আবুল কালাম বলেন, “সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করতে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই টাকা আমি তুলব, তা যেভাবেই হোক। এটুকু অন্যায় আমি করব, আর করব না।”

মঙ্গলবার লালপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কালাম আজাদ নাটোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

উল্লেখিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এটি আমার বক্তব্যের মাঝখানের একটি অংশ। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশটি প্রচার করা হচ্ছে।

“সম্পূর্ণ বক্তব্যে জনগণের কল্যাণে আজীবন নিজের সর্বস্ব দিয়ে কাজ করার বিনিময়ে কিছুই নিতে চাইনি আমি। জণগণ আমাকে পুনরায় ভালোবেসে নির্বাচিত করেছেন। তাদের মঙ্গলে, কল্যাণে যতদিন বেঁচে আছি নিঃস্বার্থভাবেই কাজ করে যাব।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আখতার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইসাহাক আলীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও শারমিন আখতার বলেন, “এমপি সাহেব আসলে বক্ত্যব্যের মাঝখানে কথাগুলো বলে ফেলেছেন। আমাদের সবারই যে যার জায়গায় থেকে আর দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা উচিত। কথা বলার সময় সচেতনতা অবলম্বন করা দরকার।”

একজন সংসদ সদস্যের কাছে আরও গঠনমূলক বক্তব্য প্রত্যাশা করে নাটোর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানে একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।