খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
তাদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
র্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের দায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ৩১ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তাদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৮ অক্টোবর ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় তিনজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমান। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৬ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীকে একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের দায়ে আটজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তাদের মধ্যে প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জুবায়ের হোসেনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় অসীম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মণ্ডল ও সজল পালকে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ আমানকে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৫ শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রণয় কুমার ঘোষ দুটি আলাদা ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন।
১৪ অগাস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলার অভিযোগ ওঠে একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মারুফ সরোয়ারকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মিশন রহমান ও খায়রুল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তারা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মুশফিক উল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
