এলপিজি-পণ্যবাজারে অভিযান, ৪২ জেলায় ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং ভোজ্য তেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্বিতীয় দিনের মত দেশব্যাপী অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রাজধানীসহ ৪২ জেলায় পরিচালিত অভিযানে সোমবার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ৫৬টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ দিন রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ, গ্যাস ক্রয়ের রশিদ দেখাতে না পারা, ক্রেতাকে পাকা ক্রয়রশিদ না দেওয়া, স্টক রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ না করা ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অনিয়ম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মজুদ করা গ্যাস সরকার নির্ধারিত দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একবারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। নতুন দর অনুযায়ী, চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১৮৩৭ টাকায়, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
এরপর থেকে অভিযান চালাচ্ছে অধিদপ্তর। অভিযানের প্রথমদিন রোববার একইভাবে রাজধানীসহ ৩০ জেলায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এদিকে সোমবার কারওয়ান বাজারে পৃথক অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং রঙ মেশানো প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়েছে। মাছে রঙ ব্যবহারের অভিযোগে সুকুমার নামে এক বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় নিত্যপণ্য ও মসলার বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং নোংরা মেঝেতে গুঁড়া মসলা রাখার দায়ে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তর বলছে, তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
ভোক্তাদের সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মূল্যতালিকা যাচাই এবং পণ্য কেনার সময় রশিদ সংগ্রহের জন্যও বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সম্মুখীন হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
