বিনামূল্যে মদ না পেয়ে পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ দোকান কর্মচারীর মৃত্যু
নরসিংদীতে ঘটনার পাঁচ দিন পর ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নরসিংদী সদরে বিনামূল্যে মদ না পেয়ে ক্রেতার দেওয়ায় পেট্রোলের আগুনের দগ্ধ সেই দোকান কর্মচারী মারা গেছেন।
ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন নরসিংদী সদর থানার ওসি এ আর এম আল মামুন।
নিহত তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) নরসিংদী পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার মনির হোসেনের ছেলে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের বাজির মোড় এলাকায় লাইসেন্সধারী দেশি মদের দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন দোকান কর্মচারী রাব্বি।
ঘটনার পরদিন রোববার রাব্বির মা মিনু বেগম নরসিংদী সদর মডেল থানায় জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বলেন, “চিকিৎসাধীন রাব্বির মৃত্যুর খবর শুনেছি। রাব্বির মায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।”
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) ও কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াসকে (৩০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামি জাহিদ সরকারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শনিবার দুপুরে বিনামূল্যে মদ না পেয়ে শহরের বাজির মোড় এলাকায় লাইসেন্সধারী দেশি মদের দোকানের কাউন্টারে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেন জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন।
এতে কাউন্টারের ভেতরে থাকা কর্মচারী রাব্বি দগ্ধ হলে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিউতে পাঁচ দিন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
বিকালে ঢাকা থেকে রাব্বির মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
