ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আসামির যাবজ্জীবন
আদালত শিশুটির পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
রাজবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশুটির ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের খরচ রাষ্ট্র বহন করবে।
রোববার দুপুরে আসামির অনুপস্থিতিতে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তৌহিদুল ইসলাম এ রায় দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফারুখ হোসেন পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আহম্মদ খার ছেলে।
মামলার বারতে পিপি বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ মে রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একই এলাকার এক নারীকে কুষ্টিয়ার খোকসায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান ফারুখ। সেখানে দুই মাস ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ঢাকায় নিয়ে গিয়েও তাকে ধর্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হলে স্থানীয় সালিশে ফারুখ তাকে বিয়ে করতে রাজি হন। পরে বিয়ে না করে তিনি পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর আদালতে মামলা করেন ওই নারী। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (১) ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফারুখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জরিমানার টাকা ওই নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। ফারুখের বর্তমান সম্পদ থেকে টাকা আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা হবে।
আদালত শিশুটির পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, ভরণপোষণ নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে।
পিপি জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, শিশুটির ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। তার মতে, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
