১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

সেদিন আপিলের পাশাপাশি অন্যান্য আবেদনের শুনানিও শুরু হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 07:07 PM

Updated : 19 Oct 2026, 07:51 PM

বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর।

সেদিন আপিলের পাশাপাশি অন্যান্য আবেদনের শুনানিও শুরু করা হবে।

সোমবার চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক এ তারিখ ঠিক করে দেন।

প্রায় ১৪ বছর আগের আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের আপিল শুনানির বিষয়ে আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, “যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর মামলা, যে সমস্ত মামলা স্বাভাবিকভাবে মানুষ মনে করে এগুলোর বিচার সম্পন্ন করার পরে কার্যকরের দিকে যাওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস রাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করি, সেই বিবেচনায় এ মামলাগুলোকে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য মাননীয় আপিল বিভাগে আবেদন করেছি।

“আমরা মনে করি এই সমস্ত মামলাগুলো বাংলাদেশের মানুষের বিবেককে বিশেষভাবে আলোড়িত করেছিল, সে সমস্ত মামলাগুলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিন বাহাদুর শাহ পার্কের পাশ দিয়ে ছাত্রলীগের একটি মিছিল যাওয়ার সময় বোমা বিস্ফোরণ হলে লোকজন ছুটতে থাকে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করা বিশ্বজিৎকে মিছিল থেকে ধাওয়া করে হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি নিজের ধর্মীয় পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও রক্ষা পাননি।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল আহমেদ। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। তদন্ত চলাকালে আসামি শাকিল, শাওন ও নাহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকারের সিদ্ধান্তে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বেআইনি সমাবেশের আরেকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ১৩ জনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাই কোর্টের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চ রায় দেয়।

হাই কোর্ট নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও পলাতক রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

বাকি ছয়জনের মধ্যে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর নূরে আলম লিমনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞাকে খালাস দেওয়া হয়।

এছাড়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে আপিল করা দুই আসামি গোলাম মোস্তফা ও এ এইচ এম কিবরিয়াকে হাই কোর্ট খালাস দেন। বাকি ১১ আসামির সাজা বহাল থাকে। হাই কোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামির মধ্যে শাকিল কারাবন্দি থাকলেও রাজন পলাতক রয়েছেন।

হাই কোর্টে খালাস পাওয়া সাইফুল, কাইয়ুম ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিলের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া এবং চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে, রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বিশ্বজিতের পরিবার ন্যায়বিচার ও দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছিল।

হাই কোর্টের রায়ে সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া ওরফে টিপু খালাস পাওয়ার পর তাদের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আপিলসহ মামলার অন্যান্য আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

আরও পড়ুন

বিশ্বজিৎ হত্যা: দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, সাজা কমে চারজনের যাবজ্জীবন

বিশ্বজিতের পলাতক খুনিরা কে কোথায়

বিশ্বজিৎ হত্যার দায়ে ৮ জনের ফাঁসি, ১৩ জনকে যাবজ্জীবন