‘স্যরি’ বলে কোলাকুলি দেবিদ্বারের এমপি-চেয়ারম্যানের

‘মারামারির মীমাংসা’ হলেও ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন যাবে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 10:21 AM
Updated : 25 July 2022, 10:21 AM

কুমিল্লার দেবিদ্বারের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের মধ্যে 'মারামারির' ঘটনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ‘মীমাংসা’ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান ‘স্যরি’ বলে একে-অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

গত ১৬ জুলাই ঢাকায় জাতীয় সংসদ এলাকার পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে দুই নেতার ‘মারামারি’র পর স্থগিত হয়ে যাওয়া সম্মেলনেরও নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকের সভাপতি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “তাদের দুজনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, দুজনের কথা শুনেছি। তাদের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, এগুলো সব মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা মিলেমিশে থাকবেন, আর কোনো সমস্যা হবে না।"

‘মারামারির মীমাংসা’ হলেও ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে; যে প্রতিবেদন যাবে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান শেখ হাসিনার কাছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোমবার সকালে হানিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আরও বলেন, "পরবর্তীতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, এই কারণে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটি সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তাদের নানা ধরনের নির্দেশনা দেবেন।"

দেবিদ্বার উপজেলায় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। এর বাইরেও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাস্টারের সমর্থকরাও সক্রিয় রয়েছে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

এসব দ্বন্দ্বের জেরে আড়াই দশকেও দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। এর মধ্যে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ১৬ জুলাই জাতীয় সংসদের মেম্বারস ক্লাবে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় দুই নেতার ‘মারামারি’ হয় বলে সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতারা জানান। তারপরই একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে দেবিদ্বারে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি সমাধান করতে রোববার দুই পক্ষকেই ঢাকায় বৈঠক ডাকে আওয়ামী লীগ। সমঝোতা বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি ম রহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টারসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমপি সাহেব ওইদিন যে আমারে মারছেন, সেটা তিনি স্বীকার করছেন। তিনি বলছেন, আমিও উত্তেজিত হয়ে তাকে নাকে ঘুষি মেরেছিলাম। বৈঠকের পরে আমরা দুজন দুজনরে স্যরি বলছি, কোলাকুলি করছি।”

“এর মধ্য দিয়ে আমাদের মীমাংসা হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে।”

“এ ছাড়া ওই দিনের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”

তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

বৈঠকে উপস্থিত কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আবদুল আউয়াল বলেন, “এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়েছে। একে-অপরকে ‘সরি’ বলে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেছেন।”

তিনি আরও জানান, এলডি হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

“আশা করছি, সামনের দিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে।”

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার বলেন, “দুই নেতার মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করা হয়েছে। তবে এলডি হলে ঘটে যাওয়া ঘটনায় কে দোষী তা ভিডিও ফুটেজ বের করার জন্য ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।”

সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এবং প্রতক্ষ্যদর্শীদের সাক্ষাতের ভিত্তিতে এই তদন্ত হবে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি ম. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মনিরুজ্জামান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক