Published : 08 Jan 2023, 01:31 PM
গোপালগঞ্জে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এস এম রকিব উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিবেক হালদার।
রকিব উদ্দিন টাকা নেওয়ার পর ওই ভূমিহীন পরিবারটিকে খাস জমি বন্দোবস্ত না দিয়ে উল্টো হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান বিবেক হালদার।
মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় গ্রামের বিমল হালদারের ছেলে বিবেক জলিরপাড় বাজারে ফুটপাতে চায়ের দোকান চালান।

বিবেক জানান, মধুমতি নদীর ভাঙনে তাদের বাস্তুভিটা বিলীন হয়েছে। জলিরপাড় গ্রামে নদীর পূর্ব পাড়ে জেগে ওঠা চরে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের গাছপালাও রোপণ করেন। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর আঘাতে ঘরের চাল নদীতে গিয়ে পড়ে।
ওই বিধ্বস্ত ঘর মেরামত করতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এস এম রকিব উদ্দিন সরদার বাধা দেন অভিযোগ করে বিবেক বলেন, “তিনি আমাকে অফিসে দেখা করতে বলেন। আমি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে আমার বসত ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেন; আমি এতে রাজি হই।
তখন ভূমি কর্মকর্তা ইউএনও, এসিল্যান্ড অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে খরচের কথা বলে কৌশলে ১ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন।
“ওই টাকা জোগাড় করতে আমি চড়া সুদে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণ করি। পরে ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অফিসের উত্তর পাশের কক্ষে বসে ৫০ হাজার টাকা দেই; তিনি টাকা গুণে নেন।”
এরপর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা খাসজমির বন্দোবস্ত না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাতে থাকেন বলে জানান বিবেক।
তিনি বলেন, “আরও ৫০ হাজার টাকা দিলে তিনি জমি বন্দোবস্ত দেবেন বলে আমাকে জানান। শতচেষ্টা করেও আমি টাকা জোগাড় করতে পারিনি।
“তাই আগের দেওয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত চাইতে তিনি আমাকে বসত জমি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন বলেন, “সরকারি জায়গায় ঘর তুলতে বাধা দিয়েছি। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে বিবেক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।"
তবে বিমল হালদারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নটি এড়িয়ে যান তিনি।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।