নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যায় গৃহশিক্ষক রিমান্ডে

গ্রেপ্তার আরও তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Sept 2022, 03:23 PM
Updated : 23 Sept 2022, 03:23 PM

নোয়াখালীর মাইজদীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রহিম রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।  

শুক্রবার সন্ধ্যায় রনিকে জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ এমদাদ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্পেসল্যাব চৌধুরী প্রমোজ জানান। 

সুধারাম থানার এসআই আরও বলেন, এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি যার মধ্যে একজন কিশোর, কিশোরের এক ভাই ও স্কুলছাত্রীর চাচাকে একই আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  

“তিন আসামির মধ্যে কিশোরের ভাইকে হত্যা মামলায় সরাসরি গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অপর দুই জনকে সন্দেভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” 

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিলের একটি কক্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।   

এ ঘটনায় দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। 

তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযান চালিয়ে উত্ত্যক্তকারী এক কিশোর, কিশোরের ভাই ও সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে আটক করে পুলিশ। রনির মাথা, ঘাড়, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড় দেখে তাকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এসপি আরও জানান, কিছুদিন আগে রনিকে বাদ দিয়ে অন্য একজনের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করে ওই স্কুলছাত্রী। এরপরও রনি ওই স্কুলছাত্রীর বাসায় অবাধে আসা-যাওয়া করতেন। 

“বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে কোনো একসময় ওই স্কুলছাত্রীর বাসায় গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঘরের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। কিন্তু ঘরের কোনো মূল্যবান জিনিস বা স্বর্ণালংকার খোয়া যায়নি।” 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক