সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু: ‘অপমৃত্যুর’ মামলা

রফিকুলের শ্যালক বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 06:02 AM
Updated : 29 July 2022, 06:02 AM

সিলেটের ওসমানীনগরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রফিকুলের শ্যালক দিলোয়ার আহমদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী একই পরিবারের পাঁচজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর পঞ্চাশোর্ধ্ব রফিকুল ও তার ১৮ বছরের ছেলে মাইকুলের মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টায় দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল মাদ্রাসা মাঠে বাবা-ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা আড়াইটায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাদের।

রফিকুল ওসমানীনগর উপজেলার বড়দিরারাই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। রফিকুলের তার স্ত্রী হোসনে আরা ইসলাম (৪০), তাদের মেয়ে সামিরা ইসলাম (১৯) ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২১) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বর্তমানে হোসনে আরা ও সাদিকুলের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও সামিরার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. শিশির চক্রবর্তী।

ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এছাড়া নিকট আত্মীয়দের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। ময়নাতদেন্তর পর ভিসেরা রিপোর্টের জন্য স্যাম্পল শনিবার চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

Also Read: সিলেটের প্রবাসীদের মৃত্যু: বাসার চার আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ

সেদিন ঘটনার পর পরই তাজপুর এলাকার ঝলক সাহার ওই বাড়িতে যান সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তখন ফরিদ উদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পরে সবাই এক কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে আত্মীয়রা সেই দরজা খোলার চেষ্টা করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে দরজা বন্ধ পায়। পরে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর বাবা ও ছোট ছেলেক মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানায়, রফিকুলের আরেকটি ছেলে অসুস্থ ছিল। চিকিৎসার সুবিধার্থে তারা এই বাসাটি ভাড়া নেয় এবং ১৮ জুলাই থেকে তারা এই বাসায় থাকতে শুরু করে। রফিকুলের শ্বশুর-শাশুড়ি এবং শ্যালকরা এই বাসায় ছিল, প্রথম থেকেই ছিলেন। এদেরকে সাথে নিয়ে থাকতেন।

এ ঘটনায় সেদিনই রফিকুলের শ্বশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ও শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওসমানীনগর থানায় নেওয়া হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক