৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন অটোরিকশা চালক: পুলিশ

বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Oct 2026, 11:16 AM

Updated : 10 Oct 2026, 12:52 PM

কুমিল্লার লালমাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ধর্ষণের পর সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যা করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

অটোরিকশার চালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে ছাত্রীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পংকজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয় একটি অটোরিকশা।

পরে কিশোরীর বাবা মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত কিশোরী কুমিল্লা নগরীর একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে তিনি কুমিল্লা নগরীতে থাকতেন।

পরে এ ঘটনায় লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন কিশোরীর বাবা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেইসকোর্সে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেছিলেন কিশোরী। সে সময় চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়া ঠিক হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সুমনের দেওয়া তথ্য মতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া বলেন, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে অন্য পথে অন্ধকার ও নির্জন এলাকায় নিয়ে যান চালক। সেখানে পৌঁছে বিষয়টি বুঝতে পেরে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় তাকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করেন সুমন। স্কুলছাত্রী চিৎকার করলে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন তিনি। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সুমন।

পরে মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে মেয়েটির ব্যাগ থেকে তার ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে চলে যান তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সুমন বাখরাবাদ এলাকায় একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও লালমাই থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার চট্টগ্রামে তার অবস্থান শনাক্তের পর সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী জঙ্গল থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আগের সংবাদ

ক্ষেত জুড়ে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, বাবাকে লাইভ লোকেশনও পাঠিয়েছিল কিশোরী

কুমিল্লায় জমিতে কিশোরীর লাশ, পাশে অটোরিকশা

কুমিল্লায় কিশোরী হত্যায় ‘মূল আসামি’ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার