কুমিল্লায় জমিতে কিশোরীর লাশ, পাশে অটোরিকশা
“রাত পৌনে ২টার দিকে বার্তা পাঠিয়ে লাইভ লোকেশন দিয়ে আমাকে এসে নিয়ে যেতে বলে,” বলেন কিশোরীর বাবা।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ক্ষেত থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান।
স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বণিক জানান, সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের ওই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেছানো এবং মুখমণ্ডল মাটিতে চেপে রাখাছিল।
১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরীর বাবা বলেন, রোববার বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে তার মেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলেই পরিবারকে জানিয়েছিল।
“পরে বুধবার রাতে আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সে মেসেজ এবং লাইভ লোকেশন পাঠায়। সেখানে সে জানায় তাকে এসে নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে ভোরবেলা যখন মেসেজ দেখি তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।“
সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, রোববার কুমিল্লা শহরেই বান্ধবীর বাসায় যাবার কথা বলে মেয়েটি বের হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তে এসেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়, পরদিন কুমিল্লা ফিরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়।
“পরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখান থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর যোগাযোগ বন্ধ।”
সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, অটোরিকশায় কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা পাওয়া গেছে। সেগুলো মেয়ের বলে শনাক্ত করেছেন তার বাবা।
ওসি মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বলেন, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
