শাবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষে মারামারি, মাথা ফাটা নিয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী

চায়ের দোকানে পায়ের উপর পা তুলে বসা নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে মারামারি হয়।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2023, 01:08 PM
Updated : 25 Jan 2023, 01:08 PM

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারিতে একজন আহত হয়েছেন। 

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেইটে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান ও সুমন মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান। 

আহত আব্দুর রব নাঈম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী; তিনি ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমানের সমর্থক। তার মাথা ফেটে গেছে। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বর্ণনায় প্রভোস্ট মনিরুজ্জামান খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের নয়াবাজারে একটি দোকানে দুই ছাত্রের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়। পরবর্তী সময়ে হলের গেইটে তারা আবার মারামারিতে জড়ায়। ঘটনা শুনে প্রভোস্ট বডি সেখানে যায়। এরপর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়; এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।“ 

আহত নাঈমের মাথায় আঘাত লেগেছে; তাকে হল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রভোস্ট জানান।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নয়াবাজারে চায়ের দোকানে নাঈম 'পায়ের উপর পা তুলে' বসে ছিলেন। এ সময় সুমনের সমর্থক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ ঠাকুর পা নামানোর কথা বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। 

পরে বেলা সাড়ে ১১টায় সুমনের সমর্থক মো. রিশাদ ঠাকুর, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ রানা, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী ইউসুফ আহমেদ টিটুসহ কয়েকজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ খলিলুর রহমানের সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। 

এক পর্যায়ে নাঈমকে স্টাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করে সুমনের সমর্থকরা। এতে তার মাথা ফেটে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহত আব্দুর রব নাঈম বলেন, “আমি এখন হাসাপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।”

ঘটনার ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। 

এ বিষয়ে সুমনের সমর্থক ইফতেখার আহমেদ রানা বলেন, “জুনিয়ররা মারামারিতে জড়িয়েছিল। আমি দুই পক্ষের নেতাদেরকে ডেকে মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”  

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান বলেন, “জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়; তারপর খবর পেয়ে আমরা গিয়ে বিষয়টা সমাধান করে দিয়েছি।”

একই কথা বলেন ছাত্রলীগের অন্য পক্ষের নেতা সুমন মিয়া।