বরিশালের তুলনায় ২০০ টাকা কম দরে ভারতে ইলিশ রপ্তানি

বরিশালের আড়তে একই ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫২ হাজার থেকে ৫৪ হাজার টাকা।

বরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 03:39 AM
Updated : 10 Feb 2024, 03:39 AM

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশের প্রথম যে চালান গেছে, একই দিন তার চেয়ে বেশি দামে ইলিশ কিনতে হয়েছে বরিশালবাসীকে।

প্রায় চার হাজার টন রপ্তানির মধ্যে বুধবার প্রথম চালানে পাঠানো হয়েছে ১৯ টন ইলিশ। বরিশালের মাহিমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাকে করে পাঠিয়েছে সেটি।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নিরব হোসেন টুটুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ তিনি পাঠিয়েছেন ১০ ডলার করে।

প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০০ টাকা।

কিন্তু একই দিন বরিশালের আড়তে একই ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫২ হাজার থেকে ৫৪ হাজার টাকা। এই হিসাবে প্রতি কেজির দাম হয় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা।

অর্থাৎ রপ্তানির দরের চেয়ে স্থানীয়বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে জাতীয় মাছ।

একই দিন বরিশালে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫৮ হাজার টাকা মণ দরে, অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম ১ হাজার ৪৫০ টাকা। এক কেজির ওপরে হলে দাম ছিল মণপ্রতি ৬২ থেতে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেজির হিসাবে তা এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা।

স্থানীয় বাজারে দাম বেশি কেন, এই প্রশ্নে রপ্তানিকারক নিরব হোসেন টুটুল ব্যস্ততার কথা জানিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এই রপ্তানিকারক বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকও। ফলে বাজারে ইলিশের দর নির্ধারণে তারও ভূমিকা আছে।

বুধবার রাত ৮টার দিকে বরিশাল থেকে ছেড়ে ইলিশভর্তি ট্রাকের চালান। এই চালানে পাঠানো হচ্ছে ১৯ টন মাছ।

নিরব হোসেন টুটুলের মাহিমা ছাড়াও যে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে বরিশালের আছে তানিশা এন্টারপ্রাইজ, মাসফি এন্টারপ্রাইজ, এ আর এন্টারপ্রাইজ এবং সি গোল্ড এন্টারপ্রাইজ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে।

ভারতে ইলিশ রপ্তানিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পোর্ট রোডের আড়তদার জহির সিকদার। তিনি বলেন, “বৈধ পথে রপ্তানি হলে চোরাই পথে ইলিশ পাচার বন্ধ হবে। তখন স্থানীয় বাজারে ইলিশ বেশি পাওয়া যাবে।”

গত বছর দুর্গা পূজার সময় দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল এক হাজার ৩০০ টন।

কেবল ওই বছর নয়, প্রতি বছরই রপ্তানি মূল্যের চেয়ে দেশের বাজারে বেশি দরে ইলিশ বিক্রির বিষয়টি উঠে আসে। তবে রপ্তানিকারকরা কখনও এর ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক]