কুষ্টিয়ায় পৃথক হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া সদরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হত্যায় ছয় জনের এবং কুমারখালীতে এক যুবক হত্যায় চার জনের যাবজ্জীবনের রায় দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Nov 2022, 11:37 AM
Updated : 10 Nov 2022, 11:37 AM

কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও সদর থানার দুটি হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এদের মধ্যে রয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান, তার দুই ভাই ও এক ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার পৃথক দুই আদালত এসব রায় দিয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী।

তিনি জানান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা গ্রামে সংঘটিত হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১ এর বিচারক তাজুল ইসলাম এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।

অপরদিকে কুমারখালী থানার একটি হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

সেই সাথে প্রত্যেককে বিভিন্ন অংকের জরিমানা ও অনাদায়ে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে দুই আদালত। 

এর মধ্যে দহকুলা গ্রামে সংঘটিত হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস (৬০), তার ভাই বাবুল বিশ্বাস (৪৫), হাবিল বিশ্বাস (৫১), আক্তারুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে মাহামুদুল হাসান সবুজ (৩০), একই এলাকার কামরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে রাশেদুল ইসলাম বিদ্যুৎ (৪১), মৃত জলিল গায়েনের ছেলে মাসুদ গায়েন (৩৯)।

কুমারখালী থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, রাজবাড়ী জেলার তেতুলিয়া এলাকার আব্দুল আজিজ মোল্ল্যার ছেলে জিল্লুর রহমান (৩০), একই এলাকার দলিল উদ্দিনের ছেলে তারেক শেখ ওরফে মাধব (৩০), মাহাফুজুর রহমানের ছেলে জাহিদ খাঁ (৩০), সিংড়া এলাকার সাইফুর রহমানের ছেলে সৌরভ মিয়া (৩৬)।

রায় ঘোষণার সময় সৌরভ মিয়া ছাড়া অন্য নয় জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথির বরাতে অনুপ কুমার নন্দী জানান, ইউপি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে শত্রুতার জেরে ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে দহকুলা গ্রামের সোহরাব উদ্দিন মোল্লার ছেলে মোল্লা মাসুদ করিম লাল্টুকে কুপিয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

এঘটনায় নিহতের ভাই মাহবুবুল করিম মোল্লা কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক শরীফ মঞ্জুর ২২ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এরপর এ মামলায় সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার রায়ে আদালত ছয় জনের যাবজ্জীবনের পাশাপাশি বাকী ১৬ জনকে খালাসের রায় দেন।

রায়ের পর এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী সুধীর শর্মা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকার চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দ চরের ঘাটে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পরদিন ১ নভেম্বর কুমারখালী থানার এসআই লিয়াকত আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালে ৩১ অক্টোবর ৩০২/৩৪ ধারায় চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন কুমারখালী থানার পরিদর্শক সিকদার আলী আক্কাস।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা রাজবাড়ী জেলার তেতুলিয়া এলাকার হাশেম শেখের ছেলে মিঠু শেখকে (২৪) ধরে এনে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে যায় ।

এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন তোফাজ্জেল হোসেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক