জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ১৭ জনের যাবজ্জীবন

২০০৯ সালে সালেহ মোহাম্মদকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আসামিরা।

জয়পুরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 10:30 AM
Updated : 7 Feb 2024, 10:30 AM

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জমির বিরোধের জেরে ১৫ বছর আগের হত্যা মামলায় দুই নারীসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দীন ১৬ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নৃপেনন্দ্র নাথ মণ্ডল জানান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর গ্রামের চকপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আরিফুল প্রামাণিক, আব্দুর রহিমের স্ত্রী অমিছা বেগম, মৃত ইউসুফ আলী প্রমাণিকের ছেলে শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক, আশরাফ আলী প্রামাণিকের ছেলে আবু নাসের প্রামাণিক, মজিবর প্রামাণিকের স্ত্রী বেলছি বেগম, মৃত আয়েন উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে হাদিউজ্জামান, আশরাফ আলী ও লাল মোহাম্মদ, আমির উদ্দিন প্রমাণিকের ছেলে মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক ও জহির প্রামাণিক, মৃত ইউসুফ আলী প্রামাণিকের ছেলে শামসুল প্রামাণিক, সায়েম উদ্দিন প্রামাণিক ও ওবায়দুল প্রামাণিক, জহির প্রামাণিকের ছেলে সাইম প্রামাণিক ও রহিম প্রামাণিক এবং সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে শাহজাহান আলী।

 এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হলেন- পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর গ্রামের চকপাড়া এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে আবু সাঈদ।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর চকপাড়া গ্রামের সালেহ মোহাম্মদের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে জমির বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে মামলাও হয়।

২০০৯ সালের ২ মে সকালে সালেহ মোহাম্মদ তার সেচ দেওয়ার শ্যালো মেশিনের ঘর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আসামিরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে আমগাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

সালেহ মোহাম্মদ এ সময় পানি পান করতে চাইলে আসামিরা তাকে মরিচের গুড়া মেশানো পানি পান করায়। তারপরই ছটফট করতে করতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ওই দিনই নিহতের ভাই আজিজুল হক বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নৃপেনন্দ্র নাথ মণ্ডল বলেন, দণ্ডিত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলায় পাঁচজন খালাস পেয়েছেন।