বরিশালে কোস্ট গার্ডের নৌযানের ধাক্কায় ডুবল দুই স্পিডবোট, ক্ষতিগ্রস্ত গমবোঝাই কার্গো
এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌযানের ধাক্কায় দুটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এ সময় আরও সাত থেকে আটটি স্পিডবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই নৌযানের ধাক্কায় খাদ্য অধিদপ্তরের জেটিতে খালাসের অপেক্ষায় থাকা ৩০০ মেট্রিক টন গমবোঝাই একটি কার্গোর তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে।
পরে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় কার্গোটি ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন খাদ্য অধিদপ্তরের জেটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার।
বরিশাল স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল আলম বলেন, সকাল ৭টার দিকে কোস্ট গার্ডের একটি নৌযান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাটে রাখা স্পিডবোটগুলোর ওপর উঠে যায়। এতে দুটি স্পিডবোট ডুবে যায় এবং আরও সাত থেকে আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ডুবে যাওয়া স্পিডবোট দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
গমবোঝাই কার্গো ডিবি পাপিয়ার ইনচার্জ মানিক হোসেন বলেন, কোস্ট গার্ডের নৌযানটি প্রথমে ঘাটে রাখা স্পিডবোটগুলোতে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের কার্গোতে আঘাত করে। এতে কার্গোর তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় শ্রমিকেরা গমের বস্তাগুলো উদ্ধার করেন।
মানিক হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে নদীর স্রোতের টান রয়েছে। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় বাম দিক দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কোস্ট গার্ডের নৌযানটি ডান দিক দিয়ে যাওয়ায় স্রোতের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।
বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা রবিউল আল আমিন বলেন, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে সদর ফায়ার সার্ভিস ও নৌ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তখন কার্গোটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। সেচযন্ত্রের সাহায্যে পানি অপসারণ শুরু করা হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত এ কাজ চলে। এতে কার্গোটি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। শ্রমিকেরা কার্গোতে থাকা গমের বস্তাগুলোও উদ্ধার করেন।
বরিশাল সদর নৌ-পুলিশের ওসি অসীম সিকদার বলেন, কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানো নৌযানটির ধাক্কায় দুটি স্পিডবোট ডুবে যায় এবং আরও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি খাদ্য অধিদপ্তরের জেটিতে রাখা গমবোঝাই কার্গোতে ধাক্কা দেয়। এতে কার্গোর তলা ফেটে পানি ঢুকে পড়ে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, নৌযানের ধাক্কায় কার্গোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ শ্রমিকদের সহায়তায় কার্গোতে থাকা প্রায় ৭৫ শতাংশ গমের বস্তা তীরে সরিয়ে নেয়। পরে কার্গো থেকে পানি অপসারণ করে ছিদ্রের জায়গা বন্ধ করা হয়। কিছু গম ভিজে গেছে। সেগুলো শুকিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, সংঘর্ষে কার্গোর তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করেছিল। পরে শ্রমিকদের সহায়তায় গম তীরে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কার্গোর ছিদ্র বন্ধ করা হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় তাদের নৌযানটির ডান পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
