Published : 01 Mar 2023, 05:59 PM
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তার স্বামীসহ দুইজনের ফাঁসির রায় হয়েছে।
বুধবার ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী গ্রামের মৃত রহিম মাতুব্বরের ছেলে চুন্নু মাতুব্বর (৫০) এবং নিহত গৃহবধূর স্বামী একই গ্রামের মৃত বারেক মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্যা (৪৯)।
তাদের প্রত্যেকের এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত দুই আসামি পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, নিহত নারীর (৩০) স্বামী জাহাঙ্গীর একই গ্রামের চুন্নু মাতুব্বরকে ২ লাখ টাকায় ভাড়া করেন স্ত্রীকে হত্যা করার জন্য। ২০১২ সালের ১৩ই জানুয়ারি রাতের কোনো এক সময় চুন্নু মাতুব্বর ওই নারীকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান।
পরে চুন্নু মাতুব্বর ওই নারীকে পাশের দশ হাজার গ্রামের এক মেহগনি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পরে গলা টিপে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি স্বপন পাল বলেন, হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বামী জাহাঙ্গীর মোল্যাকে এবং ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চুন্নু মাতুব্বরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনি জানান, দণ্ডিত জাহাঙ্গীর সৌদি আরবে পলাতক রয়েছেন; চুন্নু মাতুব্বরও পলাতক। এ মামলার বাকি পাঁচ অভিযুক্তের সঙ্গে হত্যায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তুষ্ট হলেও রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী খালাস পাওয়া পাঁচ আসামিরও শাস্তি আশা করেছিলেন বলে জানান।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী বিমল তুলশিয়ান বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আমরা পরবর্তী বিষয়ে বিবেচনা করব। আদালত বাকি আসামিদের খালাস প্রদান করায় আমরা খুশি।”
মামলার নথিতে হত্যার পিছনের কথা
২০০০ সালে সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী গ্রাম থেকে বিয়ে করেন একই গ্রামের জাহাঙ্গির মোল্যা। বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ নানা কারণে জাহাঙ্গীর স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এরপর জাহাঙ্গীর সৌদি আরব প্রবাসী হন। পরে সৌদি আরব থেকে ফিরে জাহাঙ্গীর আরেকটি বিয়ে করেন। এরপর আগের স্ত্রীর উপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।
এরপর জাহাঙ্গীর আবার প্রবাসে গেলে আগের স্ত্রী তার বাবার বাড়ি চলেযান এবং সেখানে বসবার করতে শুরু করেন। বাবার বাড়ি বসবাসের সময় প্রতিবেশী চুন্নু মাতুব্বরের ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয়।
জাহাঙ্গীর বিদেশে থাকা অবস্থায় আগের স্ত্রীকে খুন করার পরিকল্পনা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
সেই পরিকল্পনামতে জাহাঙ্গীর দুই লাখ টাকা দিয়ে ভাড়া করেন চুন্নু মাতুব্বরকে।