যৌতুকের জন্য গৃহবধূ হত্যা: স্বামী ও ননদসহ ৩ জনের প্রাণদণ্ড

২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর হেনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী; এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা হয়।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 10:29 AM
Updated : 15 Sept 2022, 10:29 AM

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে সাত বছর আগে যৌতুকের জন্য হেনা আক্তার নামের এক নারীকে হত্যার দায়ে তার স্বামী ও ননদসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেন-নিহত হেনা আক্তারের স্বামী করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বন্ধগোমরা এলাকার খোকন মিয়া (৩৯), ননদ জরিনা খাতুন (৩৭) ও মামাতো ভাসুর জালাল মিয়া (৪৩)।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমএ আফজল জানান, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার, জালাল মিয়াকে ৩০ হাজার ও জরিনা খাতুনকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০৪ সালে গুজাদিয়া ইউনিয়নের খৈলাকুরী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে হেনার সঙ্গে একই ইউনিয়নের বন্ধগোমরা এলাকার ইমান আলীর ছেলে খোকনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় । দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে দুটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।

বিয়ের পর থেকেই খোকনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা যৌতুকের জন্য হেনাকে চাপ দিয়ে আসছিল। হেনাও বেশ কয়েকবার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে স্বামীকে দেন। বোনের কথা চিন্তা করে খোকনকে একটি দোচালা টিনের ঘর তৈরি করে দেন হেনার ছোট ভাই সাইফুল। এছাড়া খোকনকে ব্যবসা করার জন্য ৪০ হাজার টাকাও দেন তিনি।

কিন্তু কিছুদিন পর আবারও যৌতুকের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করে হেনাকে চাপ দেয় খোকন ও তার পরিবার। কিন্তু এ টাকা দিতে হেনা অস্বীকৃতি জানালে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। এর জেরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর রাতে হেনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী ও তার বাড়ির আত্মীয় স্বজন।

এ ঘটনায় হেনার ভাই সাইফুল বাদী হয়ে খোকনসহ ছয়জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে করিমগঞ্জ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক