পাগলা মসজিদের দানবাক্সের স্বর্ণ-রূপা নিলামের প্রস্তুতি: কড়া নিরাপত্তায় চলছে গণনা
এর আগে সবশেষ ২০২০ সালের ১১ই মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া অলঙ্কারাদি ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারাদির ওজন নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করে নিলামে বিক্রির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৯টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে কড়া পুলিশ পাহাড়ায় জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিখানা থেকে এসব অলঙ্কারাদি জেলা সম্মেলন কক্ষে নিয়ে আসা হয়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, স্বর্ণ ও রূপার তৈরি অলঙ্কারগুলোর ওজন নির্ধারণের পর বাজারমূল্য অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে অলঙ্কার গণনা ও নিলামে বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ সেখানে উপস্থিত আছেন।
স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণ কার্যক্রমের সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য।
এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “এর আগে সবশেষ ২০২০ সালের ১১ই মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া অলঙ্কারাদি ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।
“তখনকার নিলামে প্রায় তিন বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপা এই টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া তখন পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বিক্রি করে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।”
২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সবশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়। বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে।”
এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “দানবাক্স খোলার পর পাওয়া টাকা রূপালি ব্যাংকে জমা করা হয়। আর স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।”
