১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১২ কেজি সোনা, সাড়ে ১২ কেজি রুপা

২০২০ সালে স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 10:21 PM

Updated : 12 Oct 2026, 10:21 PM

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গত ছয় বছরে জমা পড়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রৌপ্যলঙ্কার।

সোমবার রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, কেজির পরিমাপে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম সোনা এবং ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম রুপা মসজিদের দানবাক্সে জমা হয়েছে।

এখনও বৈদেশিক মুদ্রার গণনার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নয়টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খুলে স্বর্ণ-রুপার পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিখানা থেকে স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি কড়া পুলিশ প্রহরায় সম্মেলন কক্ষে আনা হয়।

পাগলা মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার তৈরী অলঙ্কারাদি এবং বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপ-কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বর্ণ, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণ কার্যক্রমে সার্বিক নিরাপত্তায় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ পুলিশ সদস্য ও ছয় এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অলঙ্কারাদি গণনা ও নিলামে বিক্রির কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি বাজারমূল্য অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক পৃথক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দানবাক্স খোলার পর প্রাপ্ত টাকা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়। এ ছাড়া স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখনকার নিলামে প্রায় ৩ বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৪ ভরি রুপা এই টাকায় বিক্রি করা হয়।

এ ছাড়া তখন পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বিক্রি করে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৬১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।

এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন ও অন্যান্য ব্যয়, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও গোরস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।