আদালতে রহিমার জবানবন্দি, থাকবেন মেয়ের জিম্মায়

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন রহিমা বেগম।

খুলনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Sept 2022, 03:45 PM
Updated : 25 Sept 2022, 03:45 PM

‘নিখোঁজের’ ২৯ দিন পর উদ্ধার রহিমা বেগম খুলনার একটি আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে তার মেয়ের জিন্মায় দিয়েছেন বিচারক।  

শনিবার সন্ধ্যায় রহিমা বেগমকে খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দির আবেদন করে। পরে বিচারক আল আমিন তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান। 

খুলনা পিবিআই’র পরিদর্শক আরও বলেন, “জবানবন্দি শেষে বিচারক রহিমা বেগমকে অপহরণ মামলার বাদী ও তার ছোট মেয়ে আদুরি আক্তারের জিম্মায় দেন।” 

পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আফরুজ্জামান টুটুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ভিকটিমকে এজাহারের বাদীর জিম্মায় দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত সেটি মঞ্জুর করেছেন।”  

খুলনার মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ অগাস্ট নিখোঁজ হন ৫৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম। এরপর থেকে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানসহ চার বোন। এনিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ফুলপুরে তার মায়ের লাশ পাওয়া গেছে বলে মরিয়ম মান্নান ফেইসবুক পোস্ট দেন। এরপর এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তা আলোচনায় আসে।

নিখোঁজের ২৯ দিন পর আলোচিত রহিমা বেগমকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে খুলনার দৌলতপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়। 

দুপুর ১টার দিকে তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানসহ চার মেয়ে পিবিআই কার্যালয়ে যান। 

সেখানে মরিয়ম মান্নান বলেন, “আমার মাকে জীবিত উদ্ধার করায় আমরা খুশি। মায়ের সঙ্গে আমরা দেখা করতে চাই এবং কথা বলতে চাই। তিনি কোথায় ছিলেন, কিভাবে ছিলেন এসব বিষয়ে আমরা জানতে চাই।” 

মরিয়ম আরও বলেন, “মায়ের আত্মগোপনে আমরা ভাইবোন জড়িত কি-না এ নিয়ে অনেকে সন্দেহ করছেন। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, আমরা যদি কোনোভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হই বা থাকি তাহলে তদন্ত করে আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই জানতাম না আমার মা কোথায় গিয়েছেন।” 

তিনি বলেন, “তাছাড়া আমার মা যদি নিজে আত্মগোপনে থাকেন তাহলে প্রচলিত আইনে তার শাস্তি হোক। আমরা চাই, এই ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হোক।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক