অসুস্থ মাকে সঙ্গে রাখতে চান না ছেলে, পাবনায় ইউএনওর কাছে অভিযোগ
মা-ছেলের বক্তব্য শুনে কয়েক দিন সময় দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে সমাধান না এলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন সাঁথিয়া ইউএনও।
অসুস্থ মাকে মাসিক খরচ দিতে রাজি হলেও নিজের সঙ্গে রাখতে নারাজ ছেলে। এমনকি মাকে সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেন তিনি।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিজের জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
শেষ বয়সে ছেলের একটু আশ্রয় পেতে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক নারী।
বৃহস্পতিবার বিকালে ইউএনও কার্যালয়ে শুনানি হয়। মাকে সঙ্গে রাখার অনুরোধ করলে ছেলে সাগর হোসেন (৩০) বলেন, “মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব।”
উপজেলার সোনাতলা গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি খাতুনের (৫০) এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে বিবাহিত হওয়ায় একমাত্র ছেলে সাগরই তার শেষ বয়সের অবলম্বন। তবে ছেলের বিয়ের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে সাগরের বিরোধ তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে সোহাগ মাকে ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সালিসে বিষয়টি সমাধানে ব্যর্থ হলে বাধ্য হয়ে ইউএনওর শরণাপন্ন হন হৃদরোগে আক্রান্ত মুন্নি খাতুন।
শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলে সাগরকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাকে সঙ্গে রেখে সেবা-যত্ন করার আহ্বান জানান। তবে ছেলে সাগর অনড় থেকে ইউএনওকে বলেন, “স্যার আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। প্রয়োজনে মাসে কত টাকা দিতে হবে বলুন। মাকে আমার কাছে রাখতে বাধ্য করলে আমি আত্মহত্যা করব।”
পরে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মা মুন্নি খাতুন বলেন, “আমি টাকা-পয়সা চাই ন, নুন-পান্তা খেয়ে হলেও ছেলের আশ্রয়ে থেকে জীবনটা পার করতে চাই।”
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি সমাধানে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর ইউএনও স্যারের কাছে পাঠানো হয়।”
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ছেলেকে বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখার জন্য কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সমাধান না এলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
