০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ২ বছর পর কবর থেকে তোলা হল সেলিম খান ও ছেলে শান্তর মরদেহ

এই মৃত্যুর ঘটনায় সেসময় থানায় কোনো মামলা হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় করা হয়।

চাঁদপুরে ২ বছর পর কবর থেকে তোলা হল সেলিম খান ও ছেলে শান্তর মরদেহ

সেলিম খান এবং তার ছেলে শান্ত খান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 11:18 AM

Updated : 07 Oct 2026, 11:18 AM

চব্বিশের ৫ অগাস্ট বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান এবং তার ছেলে অভিনেতা শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে বুধবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হয় বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) চাঁদ মিয়া।

তিনি বলেন, কবর থেকে উত্তোলনের পর মরদেহ দুটি চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত করা হবে।

মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুল সম্পদ অর্জন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নানা সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকিসংক্রান্ত মামলার কথাও বিভিন্ন সময়ে সংবাদে এসেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সেলিম খানের ছেলে শান্ত খান ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

তাদের হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক চাঁদ মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বিকালে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান।

একটি গাড়িতে করে যাওয়ার সময় চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার মুখে পড়েন তাঁরা।

সেখানে নিজের পিস্তল থেকে গুলি করে উদ্ধার পেলেও পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও শান্ত খান নিহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তৎকালীন পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

চাঁদ মিয়া আরও বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় সেসময় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানা যায়। পরে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস সরকার বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় করা হয়। মামলায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

প্রায় দুই বছর পর মরদেহ উত্তোলনের পর এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে।

থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

শরীরে কী ধরনের আঘাত ছিল, আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছিল কি না এবং মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় কি না—এসব বিষয় ময়নাতদন্তে উঠে আসতে পারে।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই, বলেন তিনি।

পুরানো খবর:

চলচ্চিত্র প্রযোজক সেলিম খান ও অভিনেতা ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা