উঠানে বাবার লাশ রেখে সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ, ৩০ ঘণ্টা পর দাফন
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হওয়ার পর সন্ধ্যায় লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধে প্রায় ৩০ ঘণ্টা আটকে ছিল জানাজা ও দাফন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই রেজাউল করিম।
মৃতের নাম নাজির উদ্দিন বেপারী (৮০)। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। নাজির উদ্দিনের ছেলের নাম ইদ্রিস আলী বেপারী এবং মেয়ের নাম হালিমা বেগম।
হালিমা বেগমের অভিযোগ, তার বাবা দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। প্রায় দেড় বছর থেকে তার কোনো জ্ঞান বা চেতনা ছিল না। এ সুযোগে তার ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আপত্তি জানান। তখন তার ভাই বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হলেও কোনো সমাধান হয় নাই।
এ কারণে সম্পত্তির বিরোধ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার কথা বলেন হালিমা বেগম।
তবে এ বিষয়ে ছেলে ইদ্রিস আলী বেপারী সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ইদ্রিস আলী দীর্ঘ এক বছর থেকে বিষয়টি সামাধানের আশ্বাস দিয়ে তার বোনকে ঘুরাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি বোনের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণও করেছেন।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নাজির উদ্দিন মারা যান। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
তিনি বলেন, জানাজায় অংশ নিতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নির্দিষ্ট সময় চলে আসেন। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মৃতের ছেলে ও মেয়ের বিরোধের কারণে জানাজা ও দাফন আটকে যায়। এক পর্যায়ে জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজন ফিরে যান।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা ও এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ বিষয়টি সমাধান করেন বলে জানান রুহুল আমিন।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, রোববার বিকাল থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। হালিমাকে জমির পরিবর্তে নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এ প্রস্তাবে তিনি সম্মত হননি। বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে পাওয়ার দাবি করেন হালিমা।
এএসআই রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসীর সহায়তায় বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৈঠকে মেয়ে হালিমাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হলে তিনি বাবার জানাজা ও দাফনে সম্মতি দেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
